Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
হোম / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / টাকা না থাকলেই ঢাকায় হারিয়ে যায় কবর! - Chief TV

টাকা না থাকলেই ঢাকায় হারিয়ে যায় কবর! - Chief TV

2026-08-31  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
টাকা না থাকলেই ঢাকায় হারিয়ে যায় কবর! - Chief TV

ঢাকায় জীবনের মতো মৃত্যুর পরও প্রকট হয়ে উঠছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। প্রিয়জনের শেষ ঠিকানা হিসেবে সাড়ে তিন হাত মাটির জায়গাটুকুও যেন এখন নির্ভর করছে আর্থিক সামর্থ্যের ওপর। আড়াই থেকে সাড়ে তিন কোটি মানুষের এই ঘনবসতিপূর্ণ নগরে সরকারি কবরস্থানে জায়গার তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের স্বজনদের কবর সংরক্ষণের সুযোগ থাকছে মাত্র ১৮ মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর। সময়সীমা শেষ হলে একই স্থানে দাফন করা হচ্ছে অন্য কাউকে। অথচ বিপুল অর্থ ব্যয় করতে পারলে নির্দিষ্ট মেয়াদে, এমনকি ২৫ বছর পর্যন্ত কবর সংরক্ষণের সুযোগ পাচ্ছেন ধনী ও প্রভাবশালীরা।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নীতিমালা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাধারণ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন প্রিয়জনের কবর সংরক্ষণ করতে পারছেন না। একই সাধারণ কবরে ১০ বছরের ব্যবধানে পাঁচ থেকে সাতজন পর্যন্ত দাফনের নজির রয়েছে। বিপরীতে আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন কবরস্থানে ১০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কবর সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে।

দুই সিটি করপোরেশনের কবর সংরক্ষণ ফিতেও রয়েছে বড় ধরনের পার্থক্য। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২০২০ সালের নীতিমালায় বরেণ্য ব্যক্তি, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্টজনদের জন্য ২৫ বছর পর্যন্ত কবর সংরক্ষণে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কয়েকটি কবরস্থানে এই ব্যয় আরও অনেক বেশি। বনানী কবরস্থানে ২৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণের সরকারি ফি দেড় কোটি টাকা, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরে ১ কোটি টাকা এবং মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, নগরে কবরের জায়গার সংকটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করতেই উচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবতায় এই ব্যবস্থাই নতুন করে অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রশ্ন তুলছে। সাধারণ পরিবার যেখানে সীমিত সময়ের জন্য স্বজনের কবর সংরক্ষণ করতে পারে, সেখানে বিত্তশালীরা কোটি টাকা ব্যয় করে দীর্ঘ ২৫ বছর পর্যন্ত সেই নিশ্চয়তা কিনতে পারছেন।

এ ছাড়া সরকারি কবরস্থানগুলোতে কবরের পরিচর্যা ও সুবিধাজনক স্থান বরাদ্দ নিয়েও অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, কবর পরিষ্কার রাখা, আগাছামুক্ত করা কিংবা প্রবেশপথের কাছাকাছি সুবিধাজনক স্থানে দাফনের জন্য নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়।

দুই সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ডিএসসিসির আওতাধীন আজিমপুর, জুরাইন ও খিলগাঁও কবরস্থানে মোট কবর রয়েছে ৪১ হাজার ৯০০টি, যার মধ্যে সংরক্ষিত ৪ হাজার ৬৫০টি। অন্যদিকে ডিএনসিসির ছয়টি কবরস্থানে মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৯০৬টি কবরের মধ্যে সংরক্ষিত রয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫টি। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জমির সংকটে নতুন কবরস্থান নির্মাণও নগর পরিকল্পনার বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ শহরে ভূমির সংকট মোকাবিলায় কবরের নির্দিষ্ট মেয়াদ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা চালু রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকায় কবর ব্যবস্থাপনায় আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে বৈষম্য তৈরি না করে সবার জন্য ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই নীতি প্রণয়ন জরুরি। ইসলামি চিন্তাবিদদের ভাষ্যও একই—মৃত ব্যক্তির সম্মান রক্ষা ও সুবিচার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত কবর ব্যবস্থাপনার প্রধান ভিত্তি, আভিজাত্য বা আর্থিক সামর্থ্য নয়।


Share: