একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই রংপুরে আবারও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার রাতে কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছে আবু সিদ্দিক (৩৫) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত আবু সিদ্দিক কাউনিয়ার হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারি হকের বাজার এলাকার রাজা মিয়ার ছেলে। হারাগাছ পৌর এলাকার চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে হারাগাছ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ওবায়দুর রহমান এবাদ জানান, রোববার সন্ধ্যার পর নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে লালমনিরহাট সদরের মিলন বাজারে যান সিদ্দিক। পরে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্বজনরা খবর পান, চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন রাস্তার ওপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘাড় ও মুখে কুপিয়ে এবং গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।
খবর পেয়ে হারাগাছ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
এর আগে শনিবার রাতে রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) ও ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী (১২)।
ওই ঘটনায় মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের দাবি, পাশের একটি ভবনের ছাদ দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠে ইয়াবা সেবনের সময় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে তাকে হত্যা করা হয়। পরে চিনে ফেলতে পারে এমন আশঙ্কায় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই যুবক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই সময়ে রংপুরে পরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নতুন করে আবু সিদ্দিক হত্যার ঘটনায় কারা জড়িত এবং এর পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছেন এলাকাবাসী।