ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলসংলগ্ন দোয়েল চত্বরের ভাস্কর্যের নিচে ফোয়ারার পানির হাউজের অংশে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করতেন দুই নিরাপত্তাকর্মী তোঁতা মিয়া ও শাহীন আলম। তাঁদের একজন সেখানে ১৬ বছর এবং অন্যজন ১৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সম্প্রতি তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভাড়া বাসায় থাকছেন তাঁরা। তাঁদের জায়গায় নতুন দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দোয়েল চত্বরের এই দুই নিরাপত্তাকর্মীর বিষয়টি সামনে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সরেজমিনে দোয়েল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, আগে যে খাটে তাঁরা থাকতেন, সেটি আর সেখানে নেই। ভাস্কর্যের চারপাশে নতুন গাছ লাগানো ও পরিচর্যার কাজ করছিলেন কয়েকজন কর্মী।
শাহীন আলম জানান, তাঁরা দুজন এখন আর সেখানে থাকেন না। তাঁদের সেখান থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। বর্তমানে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
দীর্ঘদিন সেখানে থাকার পেছনে তাঁদের আর্থিক অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। শাহীন আলমের ভাষ্য, সেখানে থাকায় তাঁদের আলাদা করে বাসাভাড়া দিতে হতো না। ফলে উপার্জনের বড় অংশ গ্রামের বাড়িতে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠাতে পারতেন। এখন ভাড়া বাসায় থাকায় তাঁদের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী জানান, দোয়েল চত্বরের স্থাপনাটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব উত্তরা ব্যাংকের। ওই দুই নিরাপত্তাকর্মীও ব্যাংকটির অধীনেই কর্মরত ছিলেন।
উত্তরা ব্যাংকের জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা মহাব্যবস্থাপক রবিউল হাসান জানান, দোয়েল চত্বরে দায়িত্ব পালনের জন্য নতুন দুজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগে দায়িত্ব পালন করা দুই কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করলেও তাঁদের বেতন দিত উত্তরা ব্যাংক। দুই নিরাপত্তাকর্মী দুই পালায় ১২ ঘণ্টা করে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁদের চাকরির মেয়াদও খুব বেশি বাকি নেই বলে জানান তিনি।