ভারতের আসামের যোরহাটে বাবার ঘরের লকার ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চুরি করা প্রায় ৫০ লাখ রুপির বড় একটি অংশ প্রেমিকার পেছনে খরচ করার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। প্রেমিকাকে প্রায় দেড় লাখ রুপি মূল্যের একটি আইফোন উপহার দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টেও অর্থ খরচ করেছেন বলে পুলিশের দাবি।
গ্রেপ্তার যুবকের নাম যশ ধনুকা আগরওয়াল। পুলিশ জানায়, গত ১১ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা বাড়ির বাইরে থাকার সুযোগে যশের বাবার ঘরে থাকা একটি লকার ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করা হয়। চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
ঘটনার তদন্তে সাইবার সিকিউরিটি সেলের সহায়তা নেয় পুলিশ। একপর্যায়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ হয়, বাইরের কেউ নয়, পরিবারের ভেতরের কেউ পরিকল্পিতভাবে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। ঘটনার পর যশ যোরহাট ছেড়ে গুজরাটের আহমেদাবাদে চলে গেলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে তার অবস্থান নিশ্চিত করে পুলিশ।
এরপর যশের বাবা আহমেদাবাদে গিয়ে তাকে খুঁজে বের করেন এবং যোরহাটে ফিরিয়ে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন যোরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঋষিকেশ হাজারিকা।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে যশ দাবি করেন, তার দুই বন্ধু জিতেন্দ্র সোমানি ও রোহিত প্রসাদের সঙ্গে মিলে চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তাদের পরামর্শেই বাবার লকার থেকে টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। লকার খোলার জন্য একজন তালাচাবি মিস্ত্রির সহায়তা নেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
যশের ভাষ্য অনুযায়ী, চুরির পর তারা পার্টি করেন। সেখানে পাবালি নামের এক তরুণীও উপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারীদের ধারণা, চুরি করা অর্থের একটি অংশ যশ তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা পাবালি দত্তের পেছনে ব্যয় করেছেন। তাকে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রুপি মূল্যের একটি আইফোন উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নগদ অর্থও দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েক দিন বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টে অবস্থান করেও অর্থ খরচ করেছেন বলে সন্দেহ পুলিশের।
তবে পাবালি দত্তকে এখনো এ মামলায় আসামি করা হয়নি। তদন্তের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চুরির ঘটনায় দায়ের করা এফআইআরে যশের দুই বন্ধু জিতেন্দ্র সোমানি ও রোহিত প্রসাদের নাম রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, চুরির পরিকল্পনায় তারা জড়িত ছিলেন এবং চুরি করা স্বর্ণালংকার সরিয়ে ফেলতেও সহায়তা করেছেন। বর্তমানে দুজনই পলাতক এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে, ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য বাড়িতে ওই নগদ অর্থ রাখা হয়েছিল। পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকায় বাড়িতে এত টাকা থাকার বিষয়টি যশ জানতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা হয়েছে। চুরি যাওয়া নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের পাশাপাশি পলাতক দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।