বাংলাদেশসহ এশিয়ার আটটি দেশে কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বন্দী দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি। তবে বাংলাদেশে কারাবন্দী পাঁচ সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেনি তারা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিপিজে জানিয়েছে, এশিয়ার আটটি দেশে মোট ১০৯ জন সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। এর মধ্যে চীনে ৫০, মিয়ানমারে ৩০, ভিয়েতনামে ১৬, কম্বোডিয়ায় পাঁচ, বাংলাদেশে পাঁচ, ভারত ও আফগানিস্তানে একজন করে এবং ফিলিপাইনে একজন সাংবাদিক বন্দী রয়েছেন।
এসব দেশের সরকারের প্রতি কারাবন্দী সাংবাদিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সিপিজে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সিপিজের বক্তব্য, সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয় এবং এ পরিস্থিতি থেকে বিশ্ব মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না।
সিপিজের সর্বশেষ বার্ষিক কারাগার জরিপ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৩০০ জনের বেশি সাংবাদিক কারাগারে ছিলেন। টানা পঞ্চম বছরের মতো বন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা ৩০০ ছাড়ায়। বিশ্বজুড়ে কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিস্তার ও সশস্ত্র সংঘাত বেড়ে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
জরিপে দেখা যায়, টানা তিন বছর ধরে সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি কারাগারে রেখেছে চীন। ২০২৫ সালে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন সাংবাদিক বন্দী ছিলেন। ৩০ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল মিয়ানমার। ২০২৪ সালে দেশটি ছিল তৃতীয় অবস্থানে। অন্যদিকে ২৯ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে দ্বিতীয় অবস্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে আসে ইসরায়েল।
এ ছাড়া ২৪ জন সাংবাদিককে কারাগারে রেখে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় জায়গা করে নেয় আজারবাইজান। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম দেশটি তালিকায় উঠে আসে। আগের বছরের তুলনায় সেখানে বন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। রাশিয়া, বেলারুশ, মিসর ও ইরিত্রিয়ায় কারাবন্দী সাংবাদিকের সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মতোই রয়েছে।
সিপিজের প্রতিবেদনে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটকের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ১১০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের অনেকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। আবার কাউকে অভিযোগ ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারাগারে সাংবাদিকদের অনেককে নিষ্ঠুর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে রাখা হয় বলেও জানিয়েছে সিপিজে। মুক্তি পাওয়া এক ফিলিস্তিনি বন্দী কারাগারের পরিস্থিতিকে ‘জীবিত মানুষের কবরস্থান’ বলে বর্ণনা করেছেন।
সিপিজের ২০২৫ সালের জরিপে অন্তর্ভুক্ত সাংবাদিকদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি পাঁচ বছরের বেশি সাজা ভোগ করছেন। প্রায় অর্ধেকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো সাজা ঘোষণা করা হয়নি। তাঁদের মধ্যে ২৬ শতাংশ পাঁচ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সাজা ছাড়াই কারাগারে রয়েছেন।
সিপিজে বলেছে, যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া অনুসরণ এবং অযৌক্তিক বিলম্ব ছাড়াই বিচার সম্পন্ন করা আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা। দীর্ঘ সময় সাজা ছাড়াই সাংবাদিকদের আটক রাখা সেই নীতির পরিপন্থী।