লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কাতারপ্রবাসী এক যুবককে বিয়ের দাবিতে তার বাড়ির সামনে টানা ছয় দিন অবস্থান নেওয়া এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের তদন্তে ওই নারীর প্রকৃত নাম রাহেনা আক্তার বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি নিজের নাম ফাতেমা আক্তার ও ঠিকানা সম্পর্কে ভিন্ন তথ্য দিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার থেকে রামগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উদ্য পাটোয়ারী বাড়িতে কাতারপ্রবাসী ইমন হোসেনের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন রাহেনা। তার দাবি, ইমনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে ইমন তা থেকে সরে যান।
রাহেনার দাবি, ইমন কাতারে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং দেশে ফিরে তাকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে দেশে ফিরে ইমন তাকে বিয়ে না করে আবার কাতারে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে ইমন হোসেন একাধিক ভিডিও বার্তায় রাহেনার সঙ্গে তার কোনো প্রেমের বা অন্য কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, পরিবারকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ওই নারী বারবার তাদের বাড়িতে এসে অবস্থান নিচ্ছেন।
ইমনের মা-ও রাহেনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, প্রবাসে থাকা অবস্থায় কিছুদিন মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে ওই নারী তাদের পরিবারকে হয়রানি করছেন। এর আগেও কয়েকবার তিনি বাড়িতে এসে একইভাবে অবস্থান নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন ইমনের মা।
রামগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, এর আগেও রাহেনা একই বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন। তখন তিনি পুলিশকে নিজের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা সম্পর্কে যে তথ্য দিয়েছিলেন, যাচাই করে তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। ফেনীর ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করেও দেওয়া ঠিকানা সঠিক পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আগের ঘটনায় রাহেনাকে থানা হেফাজতে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পরে আদালত তাকে নিজ জিম্মায় ছেড়ে দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাহেনা আক্তারের আগে দুটি বিয়ে হয়েছে। একই ধরনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সবশেষে ইমন হোসেনকে বিয়ের দাবিতে টানা ছয় দিন তার বাড়ির সামনে অবস্থানের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাহেনাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।