নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া নিজ বাড়ি থেকে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দেশটির নুয়াকোট জেলা থেকে চন্দ্রিকা শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে উদ্ধার করেন নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ কর্মকর্তা ইকবাল হাওয়ারি এএফপিকে জানান, দুর্গত এলাকা পরিষ্কারের সময় একটি পুলিশ দল চন্দ্রিকাকে খুঁজে পায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হেলিকপ্টারে করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়।
নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, চন্দ্রিকার বাড়ির সামান্য অংশ কাদার ওপরে দৃশ্যমান ছিল। বাড়িটির নিচের তলাগুলো ঘন কাদা ও ধ্বংসাবশেষে পুরোপুরি ঢেকে যায়। সেখানেই এতদিন আটকা ছিলেন তিনি।
এর আগে দেশটির রাসুয়া জেলায় আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি টানেল থেকেও এক চীনা নাগরিককে জীবিত উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল জরুরি উদ্ধারকারী দল।
গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ও পাথরধসের পর চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় পানির সঙ্গে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নামে। অনেকটা সুনামির মতো ওই ঢলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দুর্যোগের পর থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ।
অন্যদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩১ জন নিহত এবং ৫৩১ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুই দেশ মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৭৫ জনে এবং নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।