শনিবার (২৯ আগস্ট) এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত বুধবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত আঘাত হানার আগে চীনের কাছ থেকে নেপাল কোনো কার্যকর সতর্কবার্তা পায়নি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হিমবাহধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় এখনও উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে না পারায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাসরিফ জানান, ঘান্দ্রুক অন্নপূর্ণ অঞ্চলের প্রায় দুই হাজার মিটার উচ্চতায় অবস্থিত একটি পর্যটন এলাকা। সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ চোখে না পড়লেও বন্যা ও ভূমিধসে ফেরার সড়কের একাধিক অংশ ধসে গেছে। কোথাও কোথাও সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।
বন্যার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে ও বিদেশে থাকা তাসরিফের ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, তারা নেপালেই আছেন এবং এখন পর্যন্ত সুস্থ ও নিরাপদ রয়েছেন।
ইতোমধ্যে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নেপাল ও তিব্বতে অন্তত ১৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক শ মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক পর্যটক রয়েছেন।
উত্তর নেপালের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যার পর সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় গোটা বিহারকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করছে প্রশাসন।
নেপালে ভয়াবহ ভূমিধস ও বন্যায় মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি ভেসে যাচ্ছে। শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ এই প্লাবনের মধ্যে আমগাছ আঁকড়ে ধরে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ২৪ বছর বয়সী নেপালি শ্রমিক বিবেক কুমাল।
মাতৃত্বের অনুভূতি যে কোনো পদ বা মর্যাদার ঊর্ধ্বে—এমন এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নেপালের মহিলা, শিশু ও প্রবীণ নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রী সীতা বাদি। কাঠমান্ডুর একটি শিশু হোম পরিদর্শনের সময় ১৭ দিন বয়সী ক্ষুধার্ত এক শিশুর কান্না শুনে তাকে কোলে তুলে স্তন্যপান করান তিনি।