যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক বছর বয়সী শিশু কোহেন উইলিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা কেন ফস্টার পদত্যাগ করেছেন। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তর এ হত্যাকাণ্ডকে বলপ্রয়োগের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সেনাটোব্যা শহরের এক কর্মকর্তা ফস্টারের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে তাঁর পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। ফস্টারের আইনজীবী মার্টিন জুমাখ বলেন, শহর ও পুলিশ বিভাগের স্বার্থে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সুযোগ করে দিতেই ফস্টার পদত্যাগ করেছেন।
আইনজীবীর দাবি, ফস্টার জানতেন না গাড়ির ভেতরে কোনো শিশু রয়েছে। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা দোকান থেকে চুরির সন্দেহে পালাচ্ছিলেন, সে বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেন আইনজীবী।
গত ১৪ জুন স্থানীয় একটি ওয়ালমার্ট দোকানে চুরির অভিযোগের তদন্তে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা দুই নারী ও একটি শিশুকে গাড়িতে করে চলে যেতে দেখেন। মিসিসিপি তদন্ত ব্যুরোর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করলে চালক এক কর্মকর্তার দিকে গাড়ি এগিয়ে দেন। এ সময় এক কর্মকর্তা গুলি চালান। পরে গাড়িতে থাকা কোহেনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হন।
তবে শিশুটির মা ভেলেসিয়া উইলি পুলিশের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা শিশুর জন্য ডায়াপার কিনতে দোকানে গিয়েছিলেন। গাড়িতে ওঠার পর পুলিশ এগিয়ে এলে তিনি শিশুকে তুলে ধরে দেখানোর চেষ্টা করেন, যাতে কর্মকর্তারা বুঝতে পারেন গাড়িতে একটি শিশু রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মিসিসিপি জননিরাপত্তা বিভাগ ঘটনাটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার দেহে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারী—যাঁদের একজনের কোলে শিশু ছিল—দৌড়ে গাড়িতে ওঠেন। এরপর পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তা অস্ত্র তাক করে গাড়িটির কাছে যান।
গাড়িটি পেছনের দিকে যাওয়ার সময় পাশের একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পরে গাড়িটি সামনে এগোলে এক কর্মকর্তা সরে যাওয়ার সময় গুলি চালান। এতে গাড়ির সামনের যাত্রীর পাশের জানালা ভেঙে যায় এবং গাড়িটি ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়।
ঘটনাটি মেমফিস শহরের প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণে অবস্থিত ছোট শহর সেনাটোব্যায় ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। শহরটির কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের হয়রানি নিয়ে অভিযোগ করে আসছেন।