Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / ঠাকুরগাঁও / রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে রাতদিন সাজছে ঠাকুরগাঁও শহর - Chief TV

রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে রাতদিন সাজছে ঠাকুরগাঁও শহর - Chief TV

2026-09-04  রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  33 views
রাষ্ট্রপতির আগমন ঘিরে রাতদিন সাজছে ঠাকুরগাঁও শহর - Chief TV

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলাজুড়ে। তাকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। সফর সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলো সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসায় এটি জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জেলার মানুষের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি তাদের জেলার মানুষ হওয়ায় তারা গর্বিত। তার কাছে প্রত্যাশাও অনেক। শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালুসহ বেশ কিছু উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থায় এখনও নানা সমস্যা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে এসব বিষয়ে আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন তারা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার পর একজন ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ায় এটিকে জেলার মানুষের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন তারা।

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যেও আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।

রাষ্ট্রপতির আগমন সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।


Share: