মাগুরায় আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হাইকোর্টে বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ডেথ রেফারেন্স ও আসামির করা আপিলের শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আছিয়ার মা আয়েশা বেগম বলেন, মাগুরার আদালত তার মেয়ের হত্যাকারী হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। সরকারের কাছে তার দাবি, দ্রুত যেন এ রায় কার্যকর করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের মার্চে মাগুরা সদর উপজেলায় বড় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আট দিন অচেতন থাকার পর ১৩ মার্চ তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৮ মার্চ আছিয়ার মা আয়েশা বেগম মাগুরা সদর থানায় চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। দ্রুত বিচার শেষে একই বছরের ১৭ মে মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে আছিয়ার বড় বোনের শ্বশুর হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।
আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মাগুরাসহ সারা দেশে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিচার দাবিতে বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচি পালিত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।
হাইকোর্টে হিটু শেখের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।