চিত্রনায়ক সালমান শাহের হত্যা মামলায় কারাগারে থাকা অভিনেতা আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন আবারও নাকচ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাওহীদা আক্তার এ আদেশ দেন। এর আগে গত ৫ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতেও তাঁর জামিন আবেদন নাকচ হয়েছিল। ডনের আইনজীবী মো. মফিজুল ইসলাম আসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জামিন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা দুটি সুরতহাল প্রতিবেদন, দুটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, ভিসেরা প্রতিবেদন ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন বিশ্লেষণে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া ডন দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে রয়েছেন উল্লেখ করে তাঁর জামিন চাওয়া হয়। তবে আদালত আবেদনটি নাকচ করে দেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়। ওই সময় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দাবি করে, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। মামলার ঘটনার আগে, পরে ও ঘটনার সময় তাঁর আচরণ এবং চলাফেরা বিশ্লেষণ করে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলেও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়।
রিমান্ড শেষে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. মুজিবুর রহমান। আবেদনে বলা হয়, মামলার পলাতক আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে ডন তাঁদের চেনেন বলে স্বীকার করলেও মামলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছেন।
তদন্ত আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সালমান শাহের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে তাঁর সঙ্গে চলাফেরা করতেন ডন। এ কারণে সালমানের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। মামলার ঘটনা ও সালমানের মৃত্যু সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কৌশলে উত্তর দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
সিআইডির ভাষ্য, মামলাটি আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর হওয়ায় তদন্তে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে ডনকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ কারণে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে রাখার আবেদন জানানো হয়েছিল।
সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ডনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আপাতত আদালতে তাঁর জামিন আবেদন নাকচ হওয়ায় কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাঁকে।