Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / ঝিনাইদহ / সাড়ে ৫ বছর কাজ বন্ধ, নির্মাণাধীন মার্কেটের বেজমেন্টে হচ্ছে মাছ চাষ - Chief TV

সাড়ে ৫ বছর কাজ বন্ধ, নির্মাণাধীন মার্কেটের বেজমেন্টে হচ্ছে মাছ চাষ - Chief TV

2026-08-28  ডেস্ক রিপোর্ট  55 views
সাড়ে ৫ বছর কাজ বন্ধ, নির্মাণাধীন মার্কেটের বেজমেন্টে হচ্ছে মাছ চাষ -  Chief TV

ঝিনাইদহ শহরের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণ প্রকল্পটি আইনি জটিলতায় সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। নির্মাণকাজ থেমে থাকায় ভবনের বেজমেন্টে জমে থাকা পানিতে মাছ চাষ হচ্ছে। অন্যদিকে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা লোহার রডসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রীতে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এতে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ক্ষতির মুখে পড়লেও প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।

শহরের প্রাণকেন্দ্রে ৬৭ শতক জমির ওপর প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা আধুনিক পৌর সুপারমার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (বিএমডিএফ) যৌথ অর্থায়নে ২০১৯ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুপারমার্কেটে আধুনিক শপিং স্পেসের পাশাপাশি কিডস জোন, নারী উদ্যোক্তা কর্ণার, উদ্যোক্তা কর্ণার, মিনি আইটি পার্ক, জিমনেসিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার ও আধুনিক গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের বাণিজ্যিক ও নাগরিক সুবিধায় বড় পরিবর্তন আসার প্রত্যাশা ছিল স্থানীয়দের।

তবে প্রকল্প শুরুর কিছুদিনের মধ্যেই দেখা দেয় আইনি জটিলতা। যে স্থানে সুপারমার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে, সেখানে আগে একটি শিশু পার্ক ছিল। এ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে রিট করলে আদালত নির্মাণকাজের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন। এরপর ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সাড়ে পাঁচ বছরের বেশি সময় পার হলেও এখনো কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে রয়েছে। সেই পানিতে স্থানীয়ভাবে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ভবনের চারপাশে জন্মেছে আগাছা। দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় পড়ে থাকা লোহার রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী রোদ-বৃষ্টি ও পানির সংস্পর্শে থেকে মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে। এতে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকল্পটি চালু হলে ঝিনাইদহের ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসত। শত শত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী আধুনিক পরিবেশে ব্যবসার সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ারও সম্ভাবনা ছিল।

স্থানীয় ব্যবসায়ী চঞ্চল মাহমুদ বলেন, মার্কেটটি চালু হলে ঝিনাইদহের ব্যবসার চিত্র বদলে যেত। অথচ এখন সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি করে নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন।

শহরের বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে কোটি টাকার স্থাপনা নষ্ট হচ্ছে। রডে মরিচা ধরছে, বেজমেন্টে পানি জমে মাছ চাষ হচ্ছে। এত বড় সরকারি প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সচেতন নাগরিক সুজন বিপ্লব বলেন, এটি শুধু একটি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকার বিষয় নয়, এর সঙ্গে ঝিনাইদহের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও আটকে আছে। দ্রুত আইনি জটিলতা নিরসন করে প্রকল্পটির কাজ পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।

ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, আদালতে চলমান মামলার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। আইনি জটিলতা নিরসনে পৌরসভার নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী কাজ করছেন। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী। আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত আইনি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। এতে সরকারি বিনিয়োগ সুরক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ঝিনাইদহ শহর একটি আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।


Share: