Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / স্বাস্থ্য / সন্তান না হওয়ার পেছনে কে দায়ী, গবেষণায় এলো নতুন তথ্য - Chief TV

সন্তান না হওয়ার পেছনে কে দায়ী, গবেষণায় এলো নতুন তথ্য - Chief TV

2026-10-16  ডেস্ক রিপোর্ট  48 views
সন্তান না হওয়ার পেছনে কে দায়ী, গবেষণায় এলো নতুন তথ্য - Chief TV

সন্তান ধারণে দেরি হলে অনেক নারীকে সামাজিক নানা প্রশ্ন ও মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে বয়স ৩৫ পেরিয়ে গেলে সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, এ বয়সের পর নারীর ডিম্বাণুর গুণগত মান দ্রুত কমতে শুরু করে। তবে নতুন এক গবেষণায় ডিম্বাণুতে বয়সের প্রভাব নিয়ে প্রচলিত ধারণার কিছু দিক পুনর্বিবেচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত এ গবেষণার ফল ২০২৫ সালে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’-এ প্রকাশিত হয়। গবেষণায় ২২ বছর বয়সী নারী থেকে শুরু করে মধ্য চল্লিশের নারীদের ডিম্বাণু পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বাড়ার সঙ্গে নারীর রক্ত ও লালারসে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএর পরিবর্তন বাড়লেও ডিম্বাণুতে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়নি। বরং বিভিন্ন বয়সের নারীর ডিম্বাণুতে এ ধরনের পরিবর্তনের মাত্রা প্রায় কাছাকাছি ছিল। গবেষকদের প্রত্যাশা ছিল, বেশি বয়সী নারীদের ডিম্বাণুতে মিউটেশনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হবে। তবে পরীক্ষায় তেমন ফল পাওয়া যায়নি।

তবে গবেষণার এ ফলের অর্থ এই নয় যে বয়স বাড়লেও নারীর প্রজননক্ষমতা অপরিবর্তিত থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অনুযায়ী, বয়সের সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমতে পারে। বিশেষ করে ৩৫ বছরের পর উর্বরতা হ্রাসের প্রবণতা বাড়ে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই ডিম্বাণুতে নির্দিষ্ট ধরনের জিনগত পরিবর্তনের ফল দিয়ে সামগ্রিক প্রজননক্ষমতা নির্ধারণ করা যায় না।

সন্তান ধারণের ক্ষেত্রে পুরুষের বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। বয়স বাড়ার সঙ্গে শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা ও গুণগত মানে পরিবর্তন আসতে পারে। পাশাপাশি শুক্রাণুর ডিএনএতে পরিবর্তন জমার ঝুঁকিও বাড়তে পারে, যা গর্ভধারণ এবং সন্তানের কিছু স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিভিন্ন গবেষণায় বেশি বয়সী বাবার সন্তানের কিছু স্নায়বিক বিকাশজনিত সমস্যার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে বেশি বয়সী প্রত্যেক পুরুষের সন্তানের এমন সমস্যা হবে। ব্যক্তিভেদে শারীরিক অবস্থা ও প্রজননস্বাস্থ্যের পার্থক্য থাকায় বয়সের প্রভাবও একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সন্তান ধারণের সক্ষমতা শুধু নারীর বয়স বা ডিম্বাণুর অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। নারী ও পুরুষ উভয়ের বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং প্রজননস্বাস্থ্য এতে ভূমিকা রাখে। অথচ সন্তান না হলে সামাজিকভাবে নারীকেই দায়ী করার প্রবণতা এখনো রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তান ধারণে সমস্যা দেখা দিলে শুধু নারীর নয়, পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যও মূল্যায়ন করা জরুরি। গবেষণার ফল কোনো ব্যক্তির সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিশ্চিত করে না; এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।


Share: