স্বামীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন স্ত্রী। সেই মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে প্রায় চার বছর পর স্বামী আবদুল গফুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার (২৩ আগস্ট) টাঙ্গাইলের সিনিয়র দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দণ্ডিত গফুরকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
দণ্ডিত আবদুল গফুর টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালেঙ্গা গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে। সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, প্রায় ৩০ বছর আগে ঘাটাইল উপজেলার মাকড়াই গ্রামের মৃত কোপাত আলীর মেয়ে সেলিনা খাতুনের সঙ্গে গফুরের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে স্বামী গফুরের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুকের মামলা করেন সেলিনা। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর ওই মামলা আপস-মীমাংসার উদ্দেশ্যে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে যান তিনি। বিকেলে সেখান থেকে ফেরার পথে গফুর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সেলিনাকে চাপ দেন। তবে সেলিনা মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি।
পরে গফুর সেলিনাকে একটি নির্জন জঙ্গল এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ওড়না দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে পালিয়ে যান।
পরদিন ২১ নভেম্বর বিকেলে মাকড়াই গ্রামের ইমান আলীর বাড়ির দক্ষিণ পাশে জঙ্গল থেকে সেলিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় সেলিনার ভাই মো. আবদুল মান্নান বাদী হয়ে ঘাটাইল থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ পরে আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘাটাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদ হোসেন ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
মামলায় আদালত ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার গফুরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় দেওয়া হয়। রায় ঘোষণার পর তাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।