জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটে কর্মরত টেলিভিশন সাংবাদিকদের সংগঠন ইমজার নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, নতুন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগ এবং চীনের সঙ্গে টু প্লাস টু সম্পর্কের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট বলয়ে না থেকে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার নীতিতে এগোচ্ছে।
বোয়িং কেনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার জন্য কোনো চাপ নেই। দেশের চাহিদা রয়েছে বলেই বোয়িং কেনা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বিমান কেনা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব বা গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন বিমান বা ফ্লিট যুক্ত করার প্রয়োজন হবে। দেশের ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় বোয়িং কিংবা এয়ারবাস সংগ্রহ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, সফরের দিন-তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের হাজার সমস্যা থাকলেও আলোচনার পথ বন্ধ হয়নি। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই উচিত। একই সঙ্গে বেইজিং, ওয়াশিংটন, মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে জয়লাভ এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের দৃশ্যমানতা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। সার্ক ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নেতৃত্ব জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ নিয়ে আলোচনা চলছে। জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যেখানে বাংলাদেশের যাওয়া প্রয়োজন, সেখানে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে একাধিক নিরাপত্তা জোটে থাকা অনেক দেশের জন্যই এখন স্বাভাবিক বিষয়।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। মুসলিম বিশ্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।