ভারতের গুজরাট রাজ্যের সুরাটে অবস্থিত বীর নর্মদ দক্ষিণ গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষ ব্যবস্থাসম্পন্ন ৩৮৮টি সিলিং ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের চাপ পড়লে ফ্যানের নিরাপত্তাব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে সেটিকে নিচের দিকে হেলিয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঝুঁকি কমানো এবং সম্ভাব্য প্রাণহানি ঠেকাতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রীনিবাসে ১৭০টি এবং চারটি ছাত্রাবাসে ২১৮টি বিশেষ ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্যানের দাম ২ হাজার ৫০০ রুপির বেশি বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কিশোরসিংহ চাভদা।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্যানগুলোতে স্প্রিংভিত্তিক নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে। ১০ কেজির বেশি ওজনের চাপ পড়লে ব্যবস্থাটি সক্রিয় হয়ে ফ্যানটিকে নিচের দিকে হেলিয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। স্বাভাবিক অবস্থায় ফ্যানগুলো সাধারণ সিলিং ফ্যানের মতোই কাজ করে।
উপাচার্য কিশোরসিংহ চাভদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলেও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার খবর সামনে আসার পর আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ ফ্যান স্থাপনের মাধ্যমে আবাসিক কক্ষগুলোতে নিরাপত্তার অতিরিক্ত একটি স্তর যুক্ত হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন উপাচার্য। তাঁর মতে, পরীক্ষায় ব্যর্থতা কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পাওয়াকে জীবনের শেষ বলে মনে করা উচিত নয়। শিক্ষার্থীদের একাধিকবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই পরীক্ষার ফলাফল বা মানসিক চাপের কারণে হতাশ না হয়ে সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, বিশেষ ফ্যান স্থাপন শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির একটি সতর্কতামূলক উদ্যোগ। তবে শুধু অবকাঠামোগত নিরাপত্তাব্যবস্থার মাধ্যমে আত্মহত্যার সব ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলা ও আত্মহত্যার ঝুঁকি কমাতে আবাসিক হলের নিরাপত্তার পাশাপাশি সহজলভ্য পরামর্শসেবা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সংকটের সময়ে দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, নয়টি আবাসিক হলে বিশেষ ফ্যান স্থাপনের ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়বে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি প্রতিরোধে উদ্যোগটি ভূমিকা রাখবে।