Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ময়মনসিংহ বিভাগ / সারাদেশ / শেরপুর / জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, খুলে দেখলেন সব শেষ - Chief TV

জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, খুলে দেখলেন সব শেষ - Chief TV

2026-09-07  ডেস্ক রিপোর্ট  22 views
জর্দার কৌটায় ১০ বছরের সঞ্চয়, খুলে দেখলেন সব শেষ - Chief TV

সংসারের খরচ মিটিয়ে সামান্য সামান্য করে প্রায় ১০ বছর ধরে জর্দার কৌটায় টাকা জমিয়েছিলেন মনোয়ারা বেগম ও তার স্বামী জিয়া উদ্দীন। কখনো এক হাজার টাকার নোটও জমিয়েছেন। এভাবে কষ্টের সঞ্চয় গিয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রায় ২ লাখ টাকায়। কিন্তু বিপদের দিনে সেই শেষ সম্বল কাজে লাগাতে গিয়ে দেখা গেল, দীর্ঘদিন কৌটায় পড়ে থাকায় টাকাগুলো নষ্ট হয়ে ঝাঁঝরা ও টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।

শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌরশহরের পুরাতন জেলখানা রোড-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম। তিন মাস আগে তার স্বামী জিয়া উদ্দীন মারা যান। এর মধ্যে অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে কাজের সুযোগও প্রায় বন্ধ। এমন সময়ে শেষ সম্বল হিসেবে জমানো ২ লাখ টাকা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগম ভোগাই নদী থেকে বালু-পাথর সংগ্রহ করে বিক্রি করে সংসারে সহযোগিতা করতেন। তার স্বামী জিয়া উদ্দীন ছিলেন মিষ্টি তৈরির কারিগর। দুজনের কষ্টের উপার্জনেই চলত সংসার। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে প্রায় এক দশক ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমাতে থাকেন তারা। প্রায় আট মাস আগে সেই সঞ্চয় ২ লাখ টাকায় পৌঁছায়।

তবে তিন মাস আগে স্বামীর মৃত্যুর পর মনোয়ারার জীবনে আরও কঠিন সময় নেমে আসে। একই সময়ে ভোগাই নদীতে আগের মতো পাথর না থাকায় তার কাজও বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি জরুরি প্রয়োজনে সঞ্চয়ের টাকা বের করতে জর্দার কৌটাটি খুলতে যান তিনি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কৌটির মুখ খুলছিল না। পরে কৌটির মুখ কেটে টাকা বের করার পর তিনি দেখতে পান, ভেতরের নোটগুলো পচে ও ঝাঁঝরা হয়ে টুকরা টুকরা হয়ে গেছে।

প্রায় ১০ বছরের কষ্টের সঞ্চয় এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন মনোয়ারা। তিনি বলেন, স্বামী মারা গেছেন তিন মাস হলো। অনেক কষ্টে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। আগে ভোগাই নদী থেকে পাথর তুলে বিক্রি করে সংসার চালাতেন। এখন নদীতে পাথরও নেই। তার শেষ সম্বলটুকুও এভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কী করবেন, সেটিই বুঝতে পারছেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহাবুব রহমান বলেন, মনোয়ারা ও তার স্বামী দুজনই অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতেন। জিয়ার মৃত্যুর পর অভাবের মধ্যে জমানো টাকা নষ্ট হওয়ার খবর শুনে খুব কষ্ট পেয়েছেন তিনি। প্রতিবেশী জুমন মিয়াও বলেন, দীর্ঘদিনের এই সঞ্চয় মনোয়ারার কাছে শুধু টাকা ছিল না, স্বামীর মৃত্যুর পর বেঁচে থাকার শেষ ভরসা ছিল। সেই সঞ্চয় নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল মালেক বলেন, মনোয়ারা বেগমের টাকা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন। আইনিভাবে এ বিষয়ে কিছু করার সুযোগ নেই। তবে তিনি উপজেলা প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share: