Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রাজশাহী বিভাগ / সারাদেশ / চাঁপাইনবাবগঞ্জ / লিখতে পারেন না, দাগ কেটেই চায়ের দোকানের হিসাব রাখেন মান্নু - Chief TV

লিখতে পারেন না, দাগ কেটেই চায়ের দোকানের হিসাব রাখেন মান্নু - Chief TV

2026-08-23  ডেস্ক রিপোর্ট  27 views
লিখতে পারেন না, দাগ কেটেই চায়ের দোকানের হিসাব রাখেন মান্নু - Chief TV

সিমেন্টের খুঁটিতে চকের দাগ। পাশাপাশি টানা অসংখ্য দাগেই লেখা থাকে চায়ের দোকানের বাকির হিসাব। কোন দাগ কার, সেটিও মুখস্থ ৬৮ বছর বয়সী মান্নুর। নাম লিখতে না পারলেও প্রায় তিন দশক ধরে এভাবেই নিজের দোকানের হিসাব সামলে আসছেন তিনি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট-শিবগঞ্জ সড়কের কাশিয়াবাড়ি মিরপুর গ্রামের কাছে ছোট্ট এই চায়ের দোকান ঘিরেই বদলে গেছে পুরো একটি মোড়ের পরিচয়। প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে সেখানে প্রথম চায়ের দোকান দেন মান্নু। পরে বাসের চালক-সহকারী ও স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে জায়গাটির নাম হয়ে যায় ‘মান্নুর মোড়’। সেই নাম এখনো পরিচিত।

মান্নুর লেখাপড়া জানা নেই। সড়কের পাশে সিমেন্টের খুঁটির ওপর টিনের ছাউনির ছোট দোকানটিই তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল। দোকানে ঢুকলেই চোখে পড়ে খুঁটিতে চকের আঁচড়। এক কাপ চা বাকিতে গেলে একটি দাগ, টাকা পরিশোধ হলে সেটি মুছে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই চলছে তার ব্যবসার হিসাব। বাকি নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে বড় কোনো বিরোধও হয়নি বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হালিম প্রতিদিনই মান্নুর দোকানে চা পান করতে আসেন। তিনি জানান, মান্নুর দোকানের বয়স যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদেরও বয়স বেড়েছে। বছরের পর বছর বাকি চা খেয়ে টাকা পরিশোধ করলে মান্নু দাগ মুছে দেন। তার চা ও ব্যবহার দুটোই ভালো বলেও প্রশংসা করেন তিনি।

তবে শুধু চায়ের দোকান হিসেবেই নয়, ‘মান্নুর মোড়’ পরিচিত এলাকার প্রবীণদের আড্ডাখানা হিসেবেও। সকাল-বিকেল সুযোগ পেলেই ৪০ থেকে ৭০-৭৫ বছর বয়সী মানুষজন এখানে জড়ো হন। কেউ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, কেউ মসজিদের ইমাম, আবার কেউ স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তি। চায়ের কাপ হাতে চলে গল্প, হাসিঠাট্টা ও নানা বিষয়ে আলোচনা।

অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আব্দুল মজিদের বাড়ি মান্নুর দোকান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। বয়স ৭৫ হলেও বন্ধুদের সঙ্গে চা ও আড্ডার টানে প্রায় প্রতিদিনই সেখানে আসেন তিনি। তার ভাষায়, লেখাপড়া না শিখলেও প্রয়োজনের তাগিদে মান্নু হিসাব রাখার নিজস্ব কৌশল বের করে নিয়েছেন।

কালীনগর জামে মসজিদের ইমাম ও একটি নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মালেকও নিয়মিত মান্নুর দোকানে আসেন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ‘মান্নুর মোড়’ নামটি শুনে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই দোকানে এলাকার মুরব্বিদের আড্ডা চলে আসছে।

এই আড্ডায় শুধু চা আর গল্প নয়, উঠে আসে মানুষের সুখ-দুঃখ, সংসারের কথা, স্থানীয় নানা সমস্যা থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের নানা প্রসঙ্গ। এক দিন এখানে আড্ডা না হলে অনেকের কাছেই দিনটা যেন পানসে লাগে।

তিন দশক ধরে সিমেন্টের খুঁটিতে চকের দাগ দিয়ে চায়ের হিসাব রাখছেন মান্নু। তবে মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের হিসাব কোনো খাতায় ওঠেনি। এক কাপ চা, একটু আড্ডা আর আন্তরিকতায় বছরের পর বছর সেই সম্পর্কই আরও গভীর হয়েছে। আর সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই একটি সাধারণ চায়ের দোকানের নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে পুরো একটি মোড়—‘মান্নুর মোড়’।


Share: