Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / কুড়িগ্রাম / মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ - Chief TV

মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ - Chief TV

2026-10-23  মোঃ হাসান মাহমুদ জয় কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  40 views
মেয়াদোত্তীর্ণ সেতু যেন মরণফাঁদ, ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ - Chief TV

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত ঐতিহাসিক সোনাহাট সেতু জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সেতুর বিভিন্ন সংযোগস্থলের লোহার পাত ও জয়েন্ট খুলে তৈরি হয়েছে বড় বড় ফাঁক। ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতুর ওপর দিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে পাথর ও কয়লাবাহী শত শত ভারী ট্রাকসহ অসংখ্য যানবাহন। পারাপার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। নতুন সেতু নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও ইতিহাসসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ আমলে রেল চলাচলের জন্য দুধকুমার নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পর এটি সড়ক যোগাযোগের কাজে ব্যবহার শুরু হয়। বর্তমানে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা, সোনাহাট স্থলবন্দর ও কুড়িগ্রাম জেলা সদরের যোগাযোগে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দীর্ঘদিন কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সেতুর বিভিন্ন স্থানে লোহার পাত, প্লেট ও নাট-বল্টু স্থানচ্যুত হয়ে পড়েছে। সংযোগস্থলগুলো আলগা হয়ে তৈরি হয়েছে ফাঁক ও গর্ত। এসব স্থানে বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইকের চাকা আটকে দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেতুর ওপর উঠে থাকা লোহার পাতের সঙ্গে হোঁচট খেয়ে পথচারীদের আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো যানবাহন সেতুর ফাঁকে আটকে যাচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যান চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আমদানি করা পাথর ও কয়লাবাহী শত শত ট্রাক প্রতিদিন সেতুটি পার হয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যায়। পাশাপাশি দুধকুমার নদ থেকে উত্তোলিত বালুবাহী ভারী ট্রাকও চলাচল করে এ পথে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভারী যানবাহন সেতুর ওপর উঠলে পুরো কাঠামো কেঁপে ওঠে এবং বিকট শব্দ হয়। সেতুর জয়েন্টে গাড়ির চাকা আটকে যাওয়ায় কখনো কখনো দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের পাশাপাশি স্থলবন্দরের পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হচ্ছে।

তাঁদের আশঙ্কা, দুর্বল সেতুর ওপর অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে প্রাণহানির পাশাপাশি স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের দাবি, সোনাহাট স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনায় এখানে দ্রুত একটি আধুনিক ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা জরুরি। তবে তাঁদের অভিযোগ, নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

প্রযুক্তিগত জটিলতা, সমীক্ষা ও বাজেটের মতো বিভিন্ন বিষয় সামনে এনে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। জরাজীর্ণ সেতুতে মাঝেমধ্যে সাময়িক মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সোনাহাট স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী, যানবাহনচালক ও সাধারণ পথচারীদের ভাষ্য, সেতুটি এখন তাঁদের কাছে নিরাপদ যোগাযোগের মাধ্যমের চেয়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কি সেতুটি নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

এ অবস্থায় সেতুটির নিরাপত্তা যাচাই, প্রয়োজনীয় জরুরি সংস্কার এবং নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দ্রুত নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাঁদের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক, যাতে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত ও স্থলবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল থাকে।


Share: