Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / চট্টগ্রাম / নাস্তা কম দেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু - Chief TV

নাস্তা কম দেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু - Chief TV

2026-10-24  ডেস্ক রিপোর্ট  34 views
নাস্তা কম দেওয়ায় মারধর, ৯ দিন পর অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু - Chief TV

চট্টগ্রামের পটিয়ায় শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা কম দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠার তিন দিন পর মারা গেছেন সিফাতুন নুর (২২) নামের এক গৃহবধূ। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা সিফাতুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাবা মো. নুর।

এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সিফাতুন ছিলেন সবার ছোট। প্রায় পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের ইলিয়াছ খাঁ বাড়ির মৃত আব্দুল সবুরের ছেলে দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।

সিফাতুনের স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে নাস্তা নিয়ে যান তাঁর মা জুহিনুর আক্তার (৫৫)। হাতে তৈরি নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, একপর্যায়ে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁর মা জুহিনুর আক্তারকে মারধর করেন। একই সময়ে রাশেদা বেগম (৫৫) ও সুমি আক্তার (৫২) সিফাতুনের চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে মারধর করেন। মা-মেয়ের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।

সিফাতুনের পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ওই রাতেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অচেতন অবস্থায় তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত ১৪ অক্টোবর পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার। অভিযোগে রিজিয়া বেগমসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনা হয়।

সিফাতুনের বাবা মো. নুর অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন—এমন ঘটনা সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক বলেন, গত ১৪ অক্টোবর ওই গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুর খবরও পুলিশ জানতে পেরেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্তের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share: