Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / বাগেরহাট / নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফিরতেও জেলেদের শঙ্কা - Chief TV

নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফিরতেও জেলেদের শঙ্কা - Chief TV

2026-08-31  ম. ম. রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ  44 views
নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবনে ফিরতেও জেলেদের শঙ্কা - Chief TV

তিন মাসের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন বনজীবী ও জেলেরা। জীবিকার পথ খুলে যাওয়ায় উপকূলীয় জনপদগুলোতে নৌকা মেরামত, জাল বোনা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুতের ব্যস্ততা বাড়লেও জেলেদের মধ্যে স্বস্তির বদলে দেখা দিয়েছে নতুন আতঙ্ক। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বনে ফিরতে যাওয়া এসব মানুষের বড় উদ্বেগ জলদস্যু ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য।

প্রতি বছর সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাছ ও অন্যান্য জলজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এবারও তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। বন বিভাগ থেকে পাশ-পারমিট নেওয়ার প্রস্তুতির পাশাপাশি জেলেরা বনে যাওয়ার সরঞ্জাম গুছিয়ে নিচ্ছেন। তবে বনে প্রবেশের পর নিরাপত্তা এবং উপার্জিত অর্থের একটি অংশ চাঁদাবাজদের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কাই তাদের সবচেয়ে বেশি ভাবাচ্ছে।

ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসার চালাতে তাদের এনজিও ও স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। এখন বনে গিয়ে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি জলদস্যুদের চাঁদা দিতে হলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে জানান, অতীতে প্রতি ১৫ দিনের যাত্রার জন্য নৌকাপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত আগাম চাঁদা দিতে বাধ্য করা হতো, যা ‘স্লিপ’ বা টোকেন মানি নামে আদায় করা হতো।

জেলেদের অভিযোগ, বনে দায়িত্বরত কিছু অসাধু বনকর্মীর বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি বিষ দিয়ে মাছ শিকার ও ফাঁদ পেতে হরিণ শিকার করা অবৈধ চক্রগুলোর তৎপরতাও তাদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব চক্রের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কায় অনেক জেলেই সুন্দরবনে ফিরতে দ্বিধায় রয়েছেন।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. শামসুল আরেফীন জানিয়েছেন, সুন্দরবনে জেলেদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। লোকালয়ে অবস্থান করা দস্যুদের সহযোগীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। নিয়মিত টহলের মাধ্যমে দস্যুদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

বনজীবীদের মতে, শুধু আশ্বাস দিয়ে তাদের আতঙ্ক দূর করা সম্ভব নয়। সুন্দরবনের ভেতরে নিয়মিত টহল জোরদার করার পাশাপাশি জলদস্যু, চাঁদাবাজ ও অবৈধ শিকারি চক্রের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ভেঙে ফেলতে হবে। তা না হলে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে যে আয় হবে, তার বড় একটি অংশ অবৈধ চাঁদা ও অন্যান্য খরচে চলে যাবে।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনীতি উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। মাছ ও কাঁকড়া আহরণের ওপর নির্ভরশীল এসব পরিবার দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞার সময় আর্থিক সংকটে পড়ে ঋণগ্রস্ত হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে বনে ফিরলেও যদি চাঁদাবাজি ও নিরাপত্তাহীনতা তাদের পিছু নেয়, তাহলে তাদের জীবিকা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

জেলেদের নিরাপদে সুন্দরবনে প্রবেশ ও মাছ-কাঁকড়া আহরণ নিশ্চিত করতে আগামী দিনগুলোতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দস্যু ও চাঁদাবাজমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে একদিকে যেমন বনজীবীদের নিরাপত্তা বাড়বে, অন্যদিকে সুন্দরবনকেন্দ্রিক উপকূলীয় অর্থনীতিও স্বাভাবিক গতিতে ফিরতে পারবে।


Share: