বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ঘটনার রাতে তাহসিফ তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন বাড়ির দারোয়ান। তবে রাত আড়াইটার দিকে দীপ একা বাসায় ফেরেন বলে তাঁর দাবি।
দারোয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, দীপ বাসায় ফেরার পর তাঁর আচরণেও অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। তিনি চোখাচোখি করে কথা বলছিলেন না এবং মিটিমিটি হাসছিলেন বলে দাবি করেছেন দারোয়ান। এসব তথ্যের ভিত্তিতে এবং তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পর দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। তবে দারোয়ানের বক্তব্য ও দীপের আচরণসংক্রান্ত তথ্য এখনো তদন্তের অংশ; এগুলো দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে বুধবার বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে একটি মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। তবে সেটি তাহসিফের কি না, তা যাচাইয়ের কথা জানিয়েছে পিবিআই।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণকারী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ সাউরী। নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের ডাকে তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
পিবিআইয়ের এক পুলিশ সুপার জানান, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেছেন, তাঁরা ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন এবং তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
তবে দীপের দেওয়া বক্তব্যসহ জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। সংস্থাটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মোস্তফা কামাল বলেছেন, দীপকে হেফাজতে নেওয়ার পর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত সেসব তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলটির পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্তে নৌ পুলিশকে সহায়তা করছে পিবিআই।