ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন সিসিটিভি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পথচারীদের সামনেই মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী শুক্লা প্রথমে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। এরপর পিস্তল পুনরায় প্রস্তুত করে আরও তিন রাউন্ড গুলি করেন। ঘটনার পর তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে ইট দিয়ে মেরেছে, তাই আমি গুলি চালিয়েছি।’
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই শুক্লাকে আটক করে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও চারটি গুলির খালি খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাদাতগঞ্জ এলাকায় একটি ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে মার্চেন্ট নেভির সাবেক নেভিগেশন কর্মকর্তা শুক্লা গুলি চালান। এতে শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) ও সুয়াশ তিওয়ারি (৩০) গুলিবিদ্ধ হন।
আহত তিনজনকে দ্রুত কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্তকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মামলা করেছে। মামলায় হত্যা ও দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে শুক্লাসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে মঙ্গলবার সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা ফাঁড়ির ইনচার্জ অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। লক্ষ্ণৌ পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনার তরুণ গাউবা ঘটনার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনায় এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিদের একজন লক্ষ্ণৌতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের জেলা পর্যায়ের পদাধিকারী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ হয়। পরে স্থানীয় বিজেপি নেতা ও আরএসএসের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং দ্রুত বিচার ও দোষীর সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেন।