ভারতের বর্তমান সরকারের পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ। তবে সেই পরিবর্তন নির্বাচন ও সংবিধানসম্মত উপায়েই হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ টেনে ভারতের সংবিধান ও ভোটাধিকারকে গুরুত্ব দেন এই অভিনেতা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বক্তব্যে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারতে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই বর্তমান সরকারের পরিবর্তন আনা হবে। উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নির্বাচনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
দিল্লিতে প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা মার্চের’ আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করার পর এ বক্তব্য দেন প্রকাশ রাজ। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে সংগঠনটি।
প্রকাশ রাজ অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠরোধ করতে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগ করছে। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা না করে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল করা হচ্ছে।
শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবিকে বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখার বিরোধিতা করেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। আন্দোলনকারীরা সশস্ত্র নন; তাঁদের শক্তি সংবিধান ও প্রতিবাদের অধিকার।
জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে তরুণদের রাস্তায় নামতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানতে চান, জাতীয় পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নিতে চাওয়া তরুণদের কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি নারীদের ওপরও পুলিশি সহিংসতার অভিযোগ করেন প্রকাশ রাজ। এ বিষয়ে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোকে সরব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশ রাজ আরও বলেন, নাগরিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। কৃষক, সংযুক্ত কিষান মোর্চা এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের সংগঠনের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায়ে রাজপথে আরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটবে।