উত্তর নেপালের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ছবি ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ভারতের বিহারে। নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যার পর সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় গোটা বিহারকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। নদীর তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করছে প্রশাসন।
প্রশাসনের আশঙ্কা, নেপাল থেকে ভুটেকোসি, ত্রিশূলী ও গণ্ডক নদীপথে বিপুল পরিমাণ পানি বিহারে প্রবেশ করতে পারে। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পাহাড়ি ঢলে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি নেমে আসার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। নদীগুলোর পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি বাঁধ ও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বুধবার ও বৃহস্পতিবার দিনভর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে রাতে টহল বাড়াতে বলা হয়েছে।
গণ্ডক নদীর তীরবর্তী পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ ও সারণসহ সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর প্রশাসনকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের আগাম সতর্ক করে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। বাল্মিকীনগরে গণ্ডক নদীর ব্যারেজের নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়েছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশের প্রকৌশলীরা ব্যারেজের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় বাল্মিকী টাইগার রিজার্ভ এলাকাতেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিপর্যয়ের আশঙ্কা থেকে বন্যপ্রাণীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।