Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রংপুর বিভাগ / সারাদেশ / ঠাকুরগাঁও / ঠাকুরগাঁওয়ের জয়ন্ত সেন অভাবের ঘরে স্বপ্নের আলো জ্বাললেন - Chief TV

ঠাকুরগাঁওয়ের জয়ন্ত সেন অভাবের ঘরে স্বপ্নের আলো জ্বাললেন - Chief TV

2026-08-22  রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  44 views
ঠাকুরগাঁওয়ের জয়ন্ত সেন অভাবের ঘরে স্বপ্নের আলো জ্বাললেন  - Chief TV

একসময় দিন শেষে জয়ন্ত সেনের হাতে ফিরত শুধু শূন্যতা। নিয়মিত কাজ ছিল না, আয়ও ছিল অনিশ্চিত। সংসারের অভাব আর নিজের বেকারত্বের চাপে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাটত সময়। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি করেই দিনের বড় একটা অংশ পার হয়ে যেত। তবে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ইচ্ছাটা কখনো হারিয়ে যায়নি। সুযোগ পেয়ে সেই ইচ্ছাকেই কাজে লাগিয়ে এখন নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের এই তরুণ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের জামুরীপাড়া এলাকার বিশ্বেসর সেনের ছেলে জয়ন্ত সেনের বয়স ২৫ বছর। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি মেজো। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে মাধ্যমিকের পরই থেমে যায় তার পড়াশোনা। এরপর কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরলেও নিয়মিত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি।

একপর্যায়ে ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর রেইজ প্রকল্পের কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রমের একটি লিফলেটের মাধ্যমে বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন জয়ন্ত। কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স বিষয়ে প্রশিক্ষণের প্রতি আগ্রহ তৈরি হলে তিনি ইএসডিও কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদন করেন। নির্বাচিত হওয়ার পর রেইজ প্রকল্পের সহযোগিতায় মাস্টার ক্রাফটপার্সন মো. সাদেকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নেন তিনি।

প্রশিক্ষণে ইলেকট্রনিক বিভিন্ন যন্ত্রের ত্রুটি শনাক্তকরণ, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সার্ভিসিংয়ের দক্ষতা অর্জন করেন জয়ন্ত। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তার আত্মবিশ্বাস। অন্যের কাজের অপেক্ষায় না থেকে নিজের কর্মসংস্থান তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রশিক্ষণ শেষে রেইজ প্রকল্প থেকে পাওয়া ২১ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তির অর্থ দিয়ে প্রয়োজনীয় একটি মেশিন কেনেন জয়ন্ত। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বদিউলের মোড়ের ঘোষপাড়া এলাকায় ছোট পরিসরে শুরু করেন ‘এ আর কে ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড সার্ভিসিং সেন্টার’ নামে নিজের ব্যবসা।

শুরুতে দোকানে গ্রাহক ছিল কম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলেও হতাশ হননি জয়ন্ত। দক্ষতা, আন্তরিকতা ও ভালো সেবা দিয়ে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করেন। এক গ্রাহক থেকে আরেক গ্রাহকের মাধ্যমে বাড়তে থাকে তার পরিচিতি। বর্তমানে নিজের দোকান থেকে মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন তিনি। পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনেও সহযোগিতা করছেন।

জয়ন্ত সেন বলেন, একসময় কাজ না থাকায় নিজের ও পরিবারের জন্য কী করবেন, তা নিয়ে সবসময় চিন্তায় থাকতেন। ইএসডিওর কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়ে সেটিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেন। কনজিউমার ইলেকট্রনিক্সের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তার আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে মানুষ তার কাজ সম্পর্কে জানতে শুরু করে। এখন নিজের হাতে কাজ ও আয় থাকায় নিজেকে আর বেকার মনে হয় না। ভবিষ্যতে দোকানটি আরও বড় করে কয়েকজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চান তিনি।

ইএসডিওর ট্রেনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট সাপোর্ট অফিসার মো. সাজেদুর রহমান বলেন, জয়ন্তের মতো অনেক তরুণের কাজ করার আগ্রহ ও সক্ষমতা থাকলেও অর্থের অভাব, সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার ঘাটতির কারণে তারা সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেন না। ইএসডিওর লক্ষ্য শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া নয়, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বাস্তব কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

তিনি বলেন, জয়ন্ত প্রশিক্ষণের সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই ব্যবসা শুরু করেছেন। প্রকল্পের সহায়তাকে নিজের পরিশ্রম ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করেই তিনি একটি টেকসই আয়ের পথ তৈরি করতে পেরেছেন। তার মতো আরও তরুণ যেন দক্ষতা অর্জন করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই রেইজ প্রকল্পের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


Share: