বাংলাদেশের ১৮ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারীর তথ্য এবং অন্তত ১৭ হাজার ৩৬২ সেট লগইন তথ্য ডার্ক ওয়েবে পাওয়া গেছে। ব্রেন স্টেশন–২৩ পিএলসির সাইবার নিরাপত্তা বিভাগ সাইবারস্টেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সাইবার রেজিলিয়েন্স ব্রিফিং ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদনটির তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে সরকার, ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি ও শিক্ষা খাতের প্রায় ১৫০ জন প্রতিনিধি, নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাইবারস্টেশন ১৫টি খাতের মোট ৭৬৭টি ডোমেইন পর্যালোচনা করে প্রায় সব ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের প্রমাণ পেয়েছে। ফাঁস হওয়া নাগরিক তথ্যের সবচেয়ে বড় অংশ সরকারি সেবা খাতের। অন্যদিকে, তথ্য ফাঁসের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে প্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব পরিসংখ্যান ন্যূনতম হিসাবের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাইবারস্টেশনের সাইবার নিরাপত্তা সেবাবিষয়ক প্রধান মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম বলেন, যেসব ঝুঁকি শনাক্ত করা যায় না, সেগুলোর প্রতিকার করাও কঠিন। কোন কোন তথ্য ফাঁস হয়েছে, তা চিহ্নিত করে অপরাধীরা সেগুলোর অপব্যবহার করার আগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ব্রেন স্টেশন–২৩-এর নির্বাহী পরিচালক এম জে ফেরদৌস বিদেশি সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশের সাইবার নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং কার্যকর প্রতিরোধমূলক কৌশল তৈরির ওপর জোর দেন।
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় ডার্ক ওয়েবে তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি এবং তা মোকাবিলার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আলোচকেরা।