চট্টগ্রামের হালিশহরের বড়পুল এলাকার রয়েল কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারে ঘটেছে মানবিক এক আবেগঘন ঘটনা। বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও অপারেশন নিয়ে সুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে নিজের হাতে পালিত একটি ছাগল উপহার হিসেবে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হন ৬৫ বছর বয়সী দরিদ্র বৃদ্ধা রোকেয়া বেগম।
দারিদ্র্যের কারণে দীর্ঘদিন চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন রোকেয়া বেগম। চিকিৎসার খরচ বহন করা তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। পরে রয়েল কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও অপারেশনের সুযোগ পান তিনি। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তবে মুখের কথায় কৃতজ্ঞতা সীমাবদ্ধ রাখেননি রোকেয়া। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসকের জন্য ভালোবাসার উপহার হিসেবে তিনি নিজের হাতে পালিত ছাগলটি নিয়ে হাসপাতালে আসেন। তার এই ব্যতিক্রমী ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীরা।
পরে হাসপাতালের চিকিৎসক ও স্টাফরা রোকেয়া বেগমের দেওয়া ছাগলটি সাদরে গ্রহণ করেন। এ সময় হাসপাতালজুড়ে তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। অসহায় এই বৃদ্ধার আন্তরিকতা ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
রয়েল কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারের চেয়ারম্যান লায়ন ডা. নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, রোকেয়া বেগমের দেওয়া উপহার তাদের কাছে শুধু একটি ছাগল নয়; এটি একজন অসহায় মানুষের ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আশীর্বাদের প্রতীক। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি যে ভালোবাসা নিয়ে উপহারটি দিয়েছেন, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি আরও বলেন, মানুষের সেবা করাই তাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে অর্থের অভাবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সে জন্য তারা বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। রোকেয়া বেগমের মতো একজন মানুষ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসিমুখে ফিরে যাওয়াই তাদের কাজের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।
রোকেয়া বেগমকে ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে ডা. নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, প্রয়োজন হলে তাকে জানাতে। তিনি সবসময় তার পাশে থাকার চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
রোকেয়া বেগমের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সামর্থ্যের চেয়ে আন্তরিকতাই বড়। একজন অসহায় মানুষের সামান্য উপহারও যে একজন চিকিৎসকের কাছে অমূল্য হয়ে উঠতে পারে, তারই মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল এই ঘটনা।