দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের দাবিতে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ইউনুস আলী নামে এক সিভিল জজের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন এক স্কুলশিক্ষিকা। তাঁর বাড়িতে শিক্ষিকার অবস্থান নেওয়ার খবর পেয়ে সেখান থেকে চলে যান ওই বিচারক। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে অনশনের ২৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তা অব্যাহত ছিল।
অনশনরত শিক্ষিকার নাম আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তি (২৯)। তিনি হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস-সংলগ্ন এলাকার জাকির হোসেন লস্করের মেয়ে। বর্তমানে তিনি রংপুরের হারাগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
ইউনুস আলী টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জহির মোড় এলাকার জয়নাল আবেদিনের চতুর্থ ছেলে। তিনি বর্তমানে বগুড়া জজ কোর্টে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তির দাবি, ২০১৬ সাল থেকে ইউনুস আলীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক। এই সম্পর্ক চলাকালে তিন বছর আগে ইউনুস আলী বিচার বিভাগে চাকরি পান। পরে প্রায় এক বছর আগে তিনি বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।
শিক্ষিকার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের জন্য চাপ দিলেও ইউনুস আলী নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। সম্প্রতি তিনি গোপনে বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছেন—এমন খবর পেয়ে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ইউনুস আলীর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন আনিকা। তাঁর বাড়িতে আসার খবর পেয়ে ইউনুস আলী বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউনুস আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষিকার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।