ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যুবলীগের নবগঠিত কমিটিতে সহসভাপতির পদ পেয়েছেন স্বপন গোলদার ওরফে গোল্ডেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের উত্তরা পশ্চিম থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন বলে জানা গেছে। ছাত্রদল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই যুবলীগের কমিটিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে ছাত্রদল থেকে পদত্যাগের একটি চিঠি প্রকাশ করেন স্বপন গোলদার। ওই চিঠিতে তিনি ছাত্রদলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। এর কয়েক দিন পর, গত ১৬ অক্টোবর ঘোষিত সালথা উপজেলা যুবলীগের নতুন কমিটিতে তাঁকে পাঁচ নম্বর সহসভাপতি হিসেবে রাখা হয়।
ছাত্রদল থেকে পদত্যাগ এবং যুবলীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার বিষয়ে স্বপন গোলদার বলেন, ৫ আগস্টের পর দলীয় নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কৌশলগত কারণে তিনি ছাত্রদলের কমিটিতে যুক্ত হয়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় প্রকাশ্যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতে চান তিনি। এ কারণেই তাঁকে যুবলীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্বপন।
ফেসবুকে পদত্যাগপত্র প্রকাশের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, যে কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন, সেটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল না; বরং একটি খসড়া কমিটি ছিল। নিজেকে আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী দাবি করে স্বপন আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ছবি ও ভিডিও রয়েছে। এসব নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা-সমালোচনা কিংবা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, যুবলীগের নতুন কমিটিতে স্বপন গোলদারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফরিদপুর জেলা যুবলীগের সদস্য শওকত হোসেন মুকুল। তিনি বলেন, স্বপন গোলদার গোল্ডেন নামে কাউকে আগে যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে দেখেননি। তবে তাঁর বাড়ি সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া গ্রামে এবং তিনি আলতাব হোসেনের ছেলে বলে শুনেছেন। স্বপনের ছাত্রদল থেকে পদত্যাগসংক্রান্ত একটি চিঠির স্ক্রিনশটও পেয়েছেন বলে জানান মুকুল। তবে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নতুন কমিটি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন শওকত হোসেন মুকুল। তাঁর দাবি, বিশেষ কোনো ব্যক্তির ইশারা ও প্ররোচনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে। সালথা উপজেলার আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট অনেক পরিবার এবং যুবলীগের একটি বড় অংশের সঙ্গে ঘোষিত কমিটির সম্পৃক্ততা নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় অনেক নেতাকর্মীকেও কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি।
ছাত্রদলের কমিটি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা এবং অল্প সময়ের ব্যবধানে যুবলীগের কমিটিতে পদ পাওয়ার ঘটনা ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনা চলছে। তবে স্বপন গোলদার নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে আওয়ামী লীগের আদর্শের অনুসারী বলে দাবি করেছেন।