Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / জাতীয় / দেবী দুর্গার ১০ হাতে দশ অস্ত্রের রহস্য, কোন অস্ত্রের কী তাৎপর্য? - Chief TV

দেবী দুর্গার ১০ হাতে দশ অস্ত্রের রহস্য, কোন অস্ত্রের কী তাৎপর্য? - Chief TV

2026-10-16  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
দেবী দুর্গার ১০ হাতে দশ অস্ত্রের রহস্য, কোন অস্ত্রের কী তাৎপর্য? - Chief TV

শারদীয় দুর্গাপূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে দেখা যায় মহিষাসুরমর্দিনী দেবী দুর্গার অপরূপ প্রতিমা। দশ হাতে দশটি অস্ত্র ধারণ করে তিনি অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে পূজিত হন। তবে দেবীর হাতে থাকা অস্ত্রগুলো শুধু যুদ্ধের উপকরণ নয়, হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পুরাণে প্রতিটির রয়েছে আলাদা তাৎপর্য। এসব অস্ত্রের মাধ্যমে শক্তি, সাহস, জ্ঞান, পবিত্রতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা তুলে ধরা হয়।

পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা তাকে পরাজিত করতে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটান। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরসহ বিভিন্ন দেবতার সম্মিলিত শক্তি থেকে আবির্ভূত হন মহামায়া। অসুরবিনাশের জন্য দেবতারা তাঁকে বিভিন্ন অস্ত্র প্রদান করেন। সেই অস্ত্রগুলোই দেবী দুর্গার শক্তি ও অশুভের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

দেবীর হাতে থাকা সুদর্শন চক্রকে সময়ের আবর্তন, শক্তি ও বিশ্বজগতের শৃঙ্খলার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। বিষ্ণুর দেওয়া এই অস্ত্র অশুভ শক্তিকে দমন এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার ভাবনার সঙ্গে যুক্ত।

মহাদেবের দেওয়া ত্রিশূল দেবীর শক্তির পরিচায়ক। এর তিনটি ফলা সত্ত্ব, রজ ও তম—প্রকৃতির এই তিন গুণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। পুরাণের কাহিনিতে মহিষাসুরকে পরাজিত করার সঙ্গে এই অস্ত্রের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

বরুণদেবের দেওয়া শঙ্খ পবিত্রতা, শুভ সূচনা ও ধর্মীয় জাগরণের প্রতীক। হিন্দুধর্মে শঙ্খধ্বনিকে শুভ পরিবেশ সৃষ্টি এবং ভক্তদের ধর্মীয় আরাধনায় মনোযোগী করার মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়।

দেবরাজ ইন্দ্রের দেওয়া বজ্র অটল দৃঢ়তা ও সাহসের প্রতীক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিচল থাকা এবং প্রতিকূলতার মুখেও সাহস ধরে রাখার বার্তা বহন করে এই অস্ত্র। অন্যদিকে, যমের দেওয়া গদাকে শক্তি, শৃঙ্খলা, কর্তব্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

বায়ুদেবের দেওয়া ধনুক ও তীর লক্ষ্য স্থির রাখা, মনোযোগ, দক্ষতা ও দৃঢ়সংকল্পের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। অশুভের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ এবং তা অর্জনে অবিচল থাকার বার্তা দেয় এই অস্ত্র।

দেবী দুর্গার হাতে থাকা খড়্গ বা তলোয়ার অন্যায়ের বিনাশের প্রতীক। প্রতীকী ব্যাখ্যায় এর ধারকে জ্ঞানের শক্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়, যা অজ্ঞতা, বিভ্রান্তি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতার বার্তা বহন করে।

দেবীর ঘণ্টা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে পবিত্র পরিবেশ সৃষ্টি ও জাগরণের প্রতীক। পুরাণের বর্ণনায় দেবরাজ ইন্দ্রের ঐরাবত হাতির ঘণ্টার সঙ্গে এর সম্পর্কের কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘণ্টাধ্বনি ভক্তদের মনোযোগ দেবীর আরাধনায় কেন্দ্রীভূত করতে সহায়তা করে।

সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার দেওয়া পদ্ম পবিত্রতা ও শুভশক্তির প্রতীক। কাদা ও জল থেকে জন্ম নিয়েও পদ্ম যেমন নির্মল থাকে, তেমনি প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নৈতিকতা ও পবিত্রতা বজায় রাখার শিক্ষা দেয় এই ফুল। দেবীর হাতে পদ্ম আধ্যাত্মিক জাগরণের বার্তাও বহন করে।

পুরাণের প্রচলিত বর্ণনায় শেষনাগের দেওয়া নাগপাশকে বন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও শত্রুকে বশে আনার প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। প্রতীকী অর্থে এটি নিজের প্রবৃত্তি ও দুর্বলতাকে নিয়ন্ত্রণ করে অশুভের বিরুদ্ধে দৃঢ় থাকার বার্তা দেয়।

দেবী দুর্গার দশ হাতে থাকা অস্ত্রগুলো হিন্দু ধর্মীয় ঐতিহ্যে বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। এগুলোর কোনোটি শক্তি ও সাহসের, কোনোটি জ্ঞান ও পবিত্রতার, আবার কোনোটি আত্মসংযম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। সব মিলিয়ে দেবীর অস্ত্রসজ্জা অশুভ শক্তির পরাজয় এবং শুভশক্তির বিজয়ের চিরন্তন বার্তা তুলে ধরে।


Share: