এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মিনহাজুল ইসলাম রোজান। কিন্তু জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষা দেওয়ার আগেই অসুস্থ হয়ে মারা যান তিনি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে জীববিজ্ঞান ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে জিপিএ ৪.৩৩ পেয়েছেন রোজান। তবে ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় জীববিজ্ঞানে তাঁকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। ছেলের ফলাফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা সাজ্জাদুল মিরাজ।
রোজান ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১২ আগস্ট এইচএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে হাসপাতালে টানা ১০ দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ছেলের ফল প্রকাশের দিন স্মৃতিকাতর হয়ে সাজ্জাদুল মিরাজ বলেন, ছেলের ফলাফল প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু আজ সে পাশে নেই। অসুস্থতার কারণে রোজান দুটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। পরীক্ষা দিতে পারলে তার ফলাফল আরও ভালো হতো।
স্কুলের এক শিক্ষক রোজানের ফলাফলের কপি তাঁর বাবার কাছে পাঠান। ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাজ্জাদুল মিরাজ। তিনি জানান, চতুর্থ বিষয় বাদ দিয়ে রোজানের জিপিএ হয়েছে ৪.৩৩। জীববিজ্ঞানের ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এ বিষয়ে এ প্লাস পেলে তার চূড়ান্ত জিপিএ ৪.৮৩ হতে পারত।
ছেলের অসুস্থতা ও মৃত্যুর আগের ঘটনাগুলো নিয়েও আক্ষেপ রয়েছে পরিবারের। রোজানের মা ফাহমিদা আক্তার জানান, পরীক্ষার চাপের পাশাপাশি তাঁর ছেলের ডায়াবেটিস ছিল, যা তাঁরা আগে জানতেন না।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট অসুস্থ হওয়ার পর রোজানকে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন চিকিৎসকদের কেউ পরীক্ষার দুশ্চিন্তাকে অসুস্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, কেউ প্যানিক অ্যাটাকের কথা বলেন। আবার কেউ মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথা জানান। পরিবারের অভিযোগ, সে সময় ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করেই তাঁকে স্যালাইন ও ঘুমের ওষুধ দেওয়া হয়েছিল।
পরে ১৩ আগস্ট রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় রোজানের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে ৩৮ মিলিমোল/লিটারে পৌঁছায় বলে পরিবার জানিয়েছে। সেদিনই প্রথম ছেলের ডায়াবেটিসের বিষয়টি জানতে পারেন তাঁর মা-বাবা।