Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / বরিশাল বিভাগ / সারাদেশ / পটুয়াখালী / আসামির বদলে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, ২০ দিন পর জামিন - Chief TV

আসামির বদলে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, ২০ দিন পর জামিন - Chief TV

2026-09-07  ডেস্ক রিপোর্ট  29 views
আসামির বদলে অন্য ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, ২০ দিন পর জামিন - Chief TV

পটুয়াখালীর মহিপুর থানা-পুলিশের বিরুদ্ধে নাম ও পরিচয়ের মিলের কারণে প্রকৃত আসামির পরিবর্তে অন্য এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০ দিন কারাগারে থাকার পর মো. জলিল হাওলাদার (৪৭) নামে ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

জলিলের আইনজীবী হুমায়ুন কবীর বাদশা জানান, মামলার প্রকৃত আসামি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। তবে নাম ও বাবার নামের মিল থাকায় পুলিশ ভুল করে তার মক্কেলকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে বিষয়টি উপস্থাপনের পর বিচারক জলিলের জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)কে পরবর্তী ধার্য তারিখে আদালতে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট দুপুরে কলাপাড়া উপজেলার শিববাড়িয়া এলাকা থেকে মহিপুর থানার এএসআই শহিদুল ইসলাম জলিল হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেন। ওই দিনই তাকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর প্রায় ২০ দিন পটুয়াখালী জেলা কারাগারে থাকার পর মঙ্গলবার জামিনে মুক্তি পান তিনি।

গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের মেয়ে জেসমিন আক্তারের অভিযোগ, বাবাকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাচাইয়ের অনুরোধ করেন। তার বাবার নামে কোনো মামলা নেই বলেও জানান তিনি। তবে তার আপত্তি ও স্থানীয়দের অনুরোধ উপেক্ষা করে পুলিশ দ্রুত জলিলকে আদালতে পাঠায় বলে অভিযোগ করেন জেসমিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া জলিল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার বিপিনপুর শিববাড়িয়া গ্রামে। তিনি মালেক হাওলাদার ও হালিমা খাতুনের ছেলে এবং পেশায় জেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার বয়স ৪৭ বছর।

অন্যদিকে মামলার প্রকৃত আসামি জলিল হাওলাদারের বাড়িও একই এলাকায় এবং তিনিও আবদুল মালেক হাওলাদারের ছেলে। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী মায়ের নাম মাজেদা বেগম এবং বয়স ৩৫ বছর। দুই ব্যক্তির পরিচয়ের মধ্যে মূল পার্থক্য মায়ের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরে।

প্রকৃত আসামির বড় ভাই হানিফ হাওলাদার জানান, তার ভাই প্রায় তিন বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন। বাবা আবদুল মালেক হাওলাদারও জানান, তার ছোট ছেলে ২০২৩ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার পর আর দেশে ফেরেননি। ছেলের পরিবর্তে অন্য একজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি থানা-পুলিশের কাছ থেকেই জানতে পারেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ মে পটুয়াখালী সদর উপজেলার সেহাকাঠি গ্রামের আলমগীর হোসেন অর্থ প্রতারণার অভিযোগে পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এতে শিববাড়িয়া এলাকার জলিল হাওলাদারকে একমাত্র আসামি করা হয় এবং তার কাছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৩ টাকা পাওনা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং একই বছরের ৮ মে সম্পদ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার বাদী আলমগীর হোসেন বলেন, মামলা দায়েরের বছরই আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরে জানতে পারেন, আসামি দেশের বাইরে চলে গেছেন। কিছুদিন আগে মহিপুর থানার ওসি তাকে ফোন করে আসামি গ্রেপ্তারের কথা জানান এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি সংগ্রহ করেন। এরপর কী হয়েছে, তা তিনি জানেন না।

মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার নাম ও বাবার নামের মিলের কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির মায়ের নাম ও সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকলে এমন ভুলের সুযোগ থাকত না। ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তার জামিনের জন্য আইনজীবী নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।


Share: