Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / রাজনীতি / চেয়ারম্যান থেকে ‘মহামান্য’ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল - Chief TV

চেয়ারম্যান থেকে ‘মহামান্য’ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল - Chief TV

2026-08-20  ডেস্ক রিপোর্ট  44 views
চেয়ারম্যান থেকে ‘মহামান্য’ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল - Chief TV

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সংসদ সদস্যদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত ভোটে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

ভোটগ্রহণ শেষে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়। গণনা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করা মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ছাত্রজীবনেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের নেতৃত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সে সময় তাকে গ্রেপ্তারও হতে হয়েছিল।

শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন মির্জা ফখরুল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর একান্ত সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধীরে ধীরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে উঠে আসেন। ১৯৯২ সালে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন মির্জা ফখরুল। ওই সময় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

দলীয় রাজনীতিতেও দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন মির্জা ফখরুল। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। ২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেন তিনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির মহাসচিব হন।

বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে মির্জা ফখরুল ছিলেন দলটির অন্যতম প্রধান মুখ। খালেদা জিয়ার কারাবাস ও অসুস্থতার সময় এবং তারেক রহমানের লন্ডন অবস্থানের সময়ে দেশে থেকে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণও করেছেন মির্জা ফখরুল।

২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সরকারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর ১৩ আগস্ট বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন মির্জা ফখরুল।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, স্থানীয় সরকার ও জাতীয় রাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেরিয়ে এবার দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন তিনি।


Share: