Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / খুলনা বিভাগ / সারাদেশ / খুলনা / একদিনও ব্যবহার করা যায়নি ২৭ লাখ টাকার টয়লেট - Chief TV

একদিনও ব্যবহার করা যায়নি ২৭ লাখ টাকার টয়লেট - Chief TV

2026-08-27  ডেস্ক রিপোর্ট  42 views
একদিনও ব্যবহার করা যায়নি ২৭ লাখ টাকার টয়লেট - Chief TV

খুলনা বিভাগের একমাত্র সরকারি ক্যানসার ইউনিটে প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ভবনে রয়েছে পুরুষ ও নারীদের জন্য পাঁচটি করে টয়লেট। তবে নির্মাণের পর এক দিনও ব্যবহার হয়নি এসব টয়লেট। দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ পড়ে থাকায় সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যানসার ইউনিটের পেছনে নির্মিত একতলা ভবনটিতে আধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন স্থাপনের জন্য একটি সুরক্ষিত বাংকারের পাশাপাশি নারী-পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবনটি ব্যবহারের আগেই বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় সেটি আর চালু করা হয়নি।

সরেজমিনে ভবনটির দেয়ালে বড় বড় লম্বালম্বি ফাটল ও ছাদের বিভিন্ন অংশে চিড় দেখা গেছে। কোথাও কোথাও খসে পড়েছে প্লাস্টার। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনের চারপাশে আগাছা জন্মেছে। টয়লেটগুলোর দরজায় ঝুলছে তালা। ভেতরে কমোড, ওয়াশবেসিনসহ বিভিন্ন স্যানিটারি সরঞ্জাম থাকলেও দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় সেগুলোর অনেকগুলো নষ্ট হওয়ার পথে। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এরই মধ্যে টয়লেটের কল, বেসিনের কলসহ বেশ কিছু সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।

জানা গেছে, ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের দিকে। নির্মাণ শেষে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিল গণপূর্ত বিভাগ লিখিতভাবে এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে। তবে এর পরপরই ভবনটির পাশেই নতুন বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ভারী যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজের কারণে পুরোনো ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেয়। পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভবনটি ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়।

হাসপাতালের কর্মীরা জানান, নির্মাণের পর থেকেই ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে আছে। নতুন ক্যানসার ইউনিটের ভবন নির্মাণের সময় ফাটল দেখা দেওয়ায় রোগী বা হাসপাতালের কর্মীরা সেটি ব্যবহার করতে পারেননি।

ক্যানসার ইউনিটের প্রধান ডা. মো. মুকিতুল হুদা বলেন, ভবনটির টয়লেটের প্রায় সব কল, বেসিনের কলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম চোরেরা নিয়ে গেছে।

এদিকে টয়লেট সংকটে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে ব্যবহারযোগ্য টয়লেট খুঁজে পাওয়াই কঠিন। অথচ চোখের সামনে একটি ভবন তালাবদ্ধ পড়ে থাকলেও সেটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণের সময় পাশের ভবনে ফাটল দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কারিগরি তদন্ত করা প্রয়োজন। নির্মাণ ত্রুটি, মাটির বৈশিষ্ট্য কিংবা ভারী নির্মাণকাজের কারণে ফাটল তৈরি হতে পারে। তাই ভবনটির বর্তমান অবস্থা নির্ধারণে প্রকৌশলগত মূল্যায়ন জরুরি।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী মো. আইনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আগের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তিনি বিস্তারিত কোনো কাগজপত্র পাননি। বিষয়টি তার দায়িত্ব নেওয়ার আগের হওয়ায় তিনি অবগত নন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবনের বর্তমান অবস্থা নির্ণয় করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও সহজলভ্য টয়লেট চিকিৎসাসেবারই একটি মৌলিক অংশ। তাই সরকারি অর্থে নির্মিত ভবন দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ রেখে নষ্ট হতে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে ভবনটির অবস্থা নির্ধারণ করে সম্ভব হলে এটি ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে নির্মাণে ত্রুটি, অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থের অপচয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।


Share: