Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / লাইফস্টাইল / প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ - Chief TV

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ - Chief TV

2026-10-17  ডেস্ক রিপোর্ট  43 views
প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন আজ - Chief TV

সম্পর্ক ভেঙে গেলেও সব স্মৃতি মুছে যায় না। থেকে যায় অভিমান, অভিযোগ, বিশ্বাসভঙ্গের কষ্ট কিংবা না বলা অনেক কথা। সময়ের সঙ্গে সেই কষ্ট কিছুটা কমলেও অতীতের তিক্ততা কখনো কখনো মনে দাগ কেটে থাকে। পুরোনো কষ্ট পেছনে ফেলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার বার্তা নিয়ে আজ ১৭ অক্টোবর পালিত হচ্ছে ‘প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন’।

ইংরেজিতে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফরগিভ অ্যান এক্স ডে’ নামে পরিচিত এই দিবসের মূল ভাবনা হলো, অতীতের সম্পর্ক নিয়ে ভাবা এবং জমে থাকা রাগ, ক্ষোভ ও অভিমান থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা। তবে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ আবার সেই সম্পর্কে ফিরে যাওয়া নয়। বরং নিজের মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিয়ে অতীতকে মেনে নেওয়া এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা।

কবে শুরু হয়েছিল এই দিবস?

বিভিন্ন অনলাইন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়। তবে দিবসটি কে প্রথম চালু করেছিলেন, কোথায় প্রথম উদ্‌যাপন হয়েছিল কিংবা কেন ১৭ অক্টোবর তারিখটি বেছে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। এটি জাতিসংঘের স্বীকৃত আন্তর্জাতিক দিবস নয়; বরং অনলাইন বর্ষপঞ্জি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া একটি বিশেষ দিবস।

কেন প্রাক্তনকে ক্ষমা করার কথা বলা হয়?

সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে থাকতে পারে বিশ্বাসভঙ্গ, ভুল বোঝাবুঝি, মতের অমিল কিংবা জীবনের লক্ষ্য আলাদা হয়ে যাওয়া। বিচ্ছেদের পর অনেকেই পুরোনো ঘটনা বারবার মনে করেন। প্রাক্তনের প্রতি জমে থাকা ক্ষোভ ও কষ্ট কখনো কখনো দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

এই দিবস নিজের অনুভূতি ও অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে ভাবার একটি উপলক্ষ। ক্ষমার মাধ্যমে কেউ কেউ পুরোনো কষ্ট মেনে নিয়ে তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। তবে ক্ষমা করা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কাউকে জোর করে ক্ষমা করানো কিংবা দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার চাপ দেওয়া উচিত নয়।

ক্ষমা করা মানেই কি সম্পর্কে ফিরে যাওয়া?

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার অর্থ তাঁর সঙ্গে আবার যোগাযোগ করা কিংবা পুরোনো সম্পর্ক নতুন করে শুরু করা নয়। কাউকে ক্ষমা করেও তাঁর কাছ থেকে দূরে থাকা সম্ভব। কোনো সম্পর্কে নির্যাতন, প্রতারণা কিংবা অসম্মানজনক আচরণের অভিজ্ঞতা থাকলে নিজের নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

ক্ষমা করার জন্য প্রাক্তনের সঙ্গে দেখা করা, ফোন করা কিংবা বার্তা পাঠানোও বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে নিজের মনেই পুরোনো ক্ষোভ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আবার কারও ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। সেটিও স্বাভাবিক।

কীভাবে পালন করবেন দিবসটি?

দিবসটি উপলক্ষে নিজের অতীতের সম্পর্ক ও অনুভূতি নিয়ে ভাবতে পারেন। কোন ঘটনা এখনো কষ্ট দেয়, কেন সেই স্মৃতি মনে প্রভাব ফেলে এবং কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়—এসব বিষয় বোঝার চেষ্টা করা যেতে পারে।

প্রয়োজনে বিশ্বস্ত বন্ধু, পরিবারের সদস্য কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। প্রাক্তনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করলে যোগাযোগের কথা বিবেচনা করা যায়। তবে যোগাযোগ প্রয়োজন না হলে কিংবা তা নিরাপদ মনে না হলে দূরত্ব বজায় রাখাও যথাযথ সিদ্ধান্ত হতে পারে।

অতীতের স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, কষ্ট থেকে মুক্তি

লেখক ও মনোচিকিৎসাবিষয়ক চিন্তাবিদ লুইস বি. স্মেডিসের ক্ষমা নিয়ে আলোচনার মূল ভাবনা হলো, ক্ষমা অতীতের তিক্ততা মুছে দেয় না; বরং কষ্টদায়ক স্মৃতিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ তৈরি করে। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়াই এর অন্যতম তাৎপর্য।

প্রাক্তনকে ক্ষমা করার দিন তাই শুধু পুরোনো সম্পর্ক মনে করার উপলক্ষ নয়; নিজের অনুভূতিকে বোঝা, মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নতুনভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেয়। কারণ, একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও জীবনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না।


Share: