মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জাহানারা খাতুনের মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। পরে পারিবারিক বিরোধ ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর সামনে আসার পর কাবা শরিফের পূর্ব কোণে অবস্থিত হাজরে আসওয়াদের কাছে এক নারী ও পুরুষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ভিডিওটি ব্যবহার করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির পরিচয় ও ঘটনা সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি প্রচার করা হয়।
সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের (২২) মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পৌঁছানোর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারের অভিযোগ, স্বজনদের না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনায় বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্যের হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মির্যা গালিব। তাঁর মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অপরাধী হলে তাঁদের বিচার হওয়া স্বাভাবিক। তবে তাঁরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন কি না এবং তাঁদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস কী ভূমিকা রেখেছে, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতের বিচারকের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, চার আসামির বিরুদ্ধে ন্যূনতম কোনো প্রমাণ না থাকলেও তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ দণ্ডের কারণে তারা প্রায় সাত বছর কনডেম সেলে ছিলেন, যা তাদের পরিবারে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০২৪ সালের ১৯ অক্টোবর রাতে জামালপুর সদর উপজেলার রশিদপুর ভাটিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ভুক্তভোগী নারী। রাত ১১টার দিকে আসামিরা তাকে ডেকে তুলে মুখে গামছা বেঁধে বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে নিয়ে যান। সেখানে তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে আছিয়ার মা আয়েশা বেগম বলেন, মাগুরার আদালত তার মেয়ের হত্যাকারী হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। হাইকোর্টও সেই রায় বহাল রাখায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। সরকারের কাছে তার দাবি, দ্রুত যেন এ রায় কার্যকর করা হয়।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
রায়ে প্রধান আসামি বিধান চন্দ্রকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত নন্দিনীর স্বজনরা। নন্দিনীর বাবা নলনী মোহন বর্মন দ্রুত এ সাজা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রাও আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নন্দিনীর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে মনে করছেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল খালেক শেরপুর উপজেলার বাগড়া বস্তি এলাকার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আলী আসগর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আরিফ, রাকিব ও সিয়াম। এছাড়া মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
মামলার তথ্য অনুসারে, ২০২২ সালের ২৪ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আসমা। ঘটনার নয় দিন পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আসামি শাহাদাতের তথ্যের ভিত্তিতেই লাশ উদ্ধার করা হয়।