Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ঢাকা বিভাগ / সারাদেশ / ঢাকা / এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, গুলি ছুড়েছিল কে? - Chief TV

এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, গুলি ছুড়েছিল কে? - Chief TV

2026-10-30  ডেস্ক রিপোর্ট  26 views
এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, গুলি ছুড়েছিল কে? - Chief TV

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কারখানাশ্রমিক মারুফ ওরফে দুখু মিয়া। তবে তাঁর শরীরে প্রাণঘাতী গুলিটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নাকি অন্য কারও অস্ত্র থেকে ছোড়া হয়েছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের অভিযানের সময় এ ঘটনা ঘটে।

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসআরবির কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার মুখে আত্মরক্ষার্থে তাঁদের সদস্যরা চারটি ফাঁকা গুলি ছুড়েছিলেন। অন্যদিকে নিহতের পরিবারের ভাষ্য, গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে বের হওয়ার পর গুলিবিদ্ধ হন মারুফ। তবে কে তাঁকে গুলি করেছেন, তা পরিবারের কেউ দেখেননি।

এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাদা পোশাকে চার সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যায়। এ সময় ২৪৫টি ইয়াবা ও ১৩৯ পুরিয়া হেরোইনসহ চারজনকে আটক করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সদস্যরা চারটি গুলি ছোড়েন। হামলাকারীদের দিক থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে কোন পক্ষের গুলিতে মারুফের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।

মারুফের মা সেলিনা বেগমের দাবি, তাঁর ছেলের গলায় গুলি লেগেছিল। অন্যদিকে মামলার এজাহারে ডান কাঁধে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং গুলির উৎস নির্ধারণে ময়নাতদন্ত ও ব্যালিস্টিক পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মারুফের স্ত্রী মীম আক্তার রুনা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বাসায় ফিরে কিছুক্ষণ পর খাবার খেতে চেয়ে বাইরে যান তাঁর স্বামী। পরে গোলাগুলির শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে তাঁকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মারুফকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মারুফের মৃত্যু নিয়ে এজাহারের বর্ণনা ও পরিবারের বক্তব্যে অসংগতি দেখা দিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁদের না পড়িয়েই কাগজে টিপসই নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, এ ঘটনায় হত্যা, মাদক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে তিনটি মামলা হয়েছে।

ঘটনার পর ধলপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এতে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা।

মারুফের মৃত্যুর ঘটনায় গুলির উৎস, অভিযানের সময়কার পরিস্থিতি এবং মামলার এজাহার নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর পেতে তদন্তের ফলের অপেক্ষা করছেন তাঁর স্বজনেরা।

 


Share: