ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে চেন্নাইয়ে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’তে যোগ দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভে দলটির এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে ‘গণতন্ত্র রক্ষা’ শীর্ষক এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর ও তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাতটি দলের নেতারা অংশ নেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে একই ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শুধু তামিলনাড়ুতেই ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের অধীনে পরিচালিত এ প্রক্রিয়া সংবিধানের চেতনাকে ক্ষুণ্ন করছে। তাঁদের আশঙ্কা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারসাজির মাধ্যমে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে টিভিকে প্রধান ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয়ের বাসভবনে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই নেতা বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।
সংবাদমাধ্যম ‘সাউথ ফার্স্ট’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজেপির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে বিভিন্ন আলোচনা, প্রচার ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিজয় ও তাঁর দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। তামিলনাড়ুতে ‘সেক্যুলার সোশ্যাল জাস্টিস ভিক্টরি অ্যালায়েন্স’ গঠনের পর দুই নেতার ওই বৈঠককে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।