নব্বইয়ের দশকে বলিউডে যখন আন্ডারওয়ার্ল্ড ও গ্যাংস্টারদের দাপট ছিল তুঙ্গে, তখনই ক্যারিয়ার শুরু করেন শাহরুখ খান। সে সময় প্রভাবশালী অপরাধীরা অনেক তারকাকেই জোর করে সিনেমায় অভিনয় কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য করত। প্রাণের ভয়ে অধিকাংশ তারকা তাদের দাবি মেনে নিলেও ব্যতিক্রম ছিলেন শাহরুখ।
সম্প্রতি পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত জানিয়েছেন, এক কুখ্যাত গ্যাংস্টারের হুমকির মুখেও শাহরুখ নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কোনো ছবি করবেন না কিংবা কোনো অনুষ্ঠানে যাবেন না। এমনকি তাকে গুলি করার হুমকি দেওয়া হলেও অন্যায় দাবির কাছে মাথা নত করবেন না বলেও জানিয়ে দেন অভিনেতা।
শাহরুখের এমন দৃঢ় ও নির্ভীক অবস্থান অপরাধ জগতের লোকজনকেও তাকে আলাদাভাবে দেখতে বাধ্য করে। তবে এর জন্য কম মূল্য দিতে হয়নি তাকে। টানা প্রায় তিন বছর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয়েছিল বলিউডের এই তারকাকে।
লেখক ও চলচ্চিত্র সমালোচক অনুপমা চোপড়ার বইয়েও গ্যাংস্টার আবু সালেম, ছোটা রাজন ও ছোটা শাকিলের সঙ্গে শাহরুখ খানের সংঘাতের বিষয়টি উঠে এসেছে। ১৯৯৭ সালে ‘ডুপ্লিকেট’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় তার ওপর হুমকির মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তখন সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় থাকতে হতো তাকে।
একবার আবু সালেমের ঘনিষ্ঠ এক প্রযোজকের সিনেমায় কাজ করতে রাজি না হওয়ায় শাহরুখকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ হলেও ফোনে নিজের আত্মবিশ্বাস ও দৃঢ়তা বিন্দুমাত্র প্রকাশ পেতে দেননি তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুতেই জীবনের ঝুঁকি তৈরি হওয়া সত্ত্বেও কোনো অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার এই মানসিকতাই শাহরুখ খানকে বলিউডের ‘কিং খান’ হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করে দেয়।