রাজধানীর সবুজবাগে সিফাত উল্লাহ (২৭) হত্যা মামলায় নাজিফা শেখ নেহার একাধিক প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব সম্পর্কের পূর্বাপর দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় অন্য কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নেহা অনলাইনে কাপড় বিক্রি করতেন। সেখান থেকেই সিফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ের কথাবার্তাও চলছিল। ঘটনার দিন তাদের একসঙ্গে মার্কেটে যাওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ জানায়, সিফাতের আগে সাজিদ নামে এক যুবকের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের ইতি টানার পর সিফাতের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। এ বিষয়সহ বিভিন্ন দ্বন্দ্বের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পুলিশের।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সবুজবাগের মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে নেহা আরেক তরুণীর সঙ্গে থাকতেন। রোববার সিফাত সেখানে গেলে দুই যুবক দরজায় নক করে ভেতরে প্রবেশ করেন। তাদের সঙ্গে সিফাতের কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে সিফাত ওই বাসায় থাকা একটি চাকু দিয়ে দুই যুবককে আঘাত করেন। আহত দুজন সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সিফাতও দ্রুত নিচে নেমে মোটরসাইকেল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখন আহত দুই যুবকসহ আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সিফাতকে প্রথমে মুগদা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে বিকেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হামলায় আহত রাজির রাব্বি (২৫) ও ইয়াসিন (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে যান।
সিফাতের বন্ধু হাসান জানান, মোটরসাইকেলে করে ওই তরুণীর বাসার সামনে তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন সিফাত। একপর্যায়ে হামলার বিষয়টি বুঝতে পেরে সেখান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা করা হয়।
এ ঘটনায় সিফাতের পরিবারের পক্ষ থেকে সবুজবাগ থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। মামলায় নেহাকে গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি তার সাবেক প্রেমিক সাজিদসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত শুধু নেহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
নিহত সিফাত দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। কিছুদিন আগে দেশে ফেরেন। আবার কাতারে যাওয়ার কথা ছিল তার। তার বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।
অন্যদিকে নেহা সবুজবাগের উত্তর আদর্শপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট হিসেবে থাকতেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সিফাতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। পরে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।