Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / সিলেট বিভাগ / সারাদেশ / সুনামগঞ্জ / ফেসবুকে কবিরাজির বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে সোনা লুট, গ্রেপ্তার ২ - Chief TV

ফেসবুকে কবিরাজির বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে সোনা লুট, গ্রেপ্তার ২ - Chief TV

2026-09-07  ডেস্ক রিপোর্ট  19 views
ফেসবুকে কবিরাজির বিজ্ঞাপন দিয়ে বাসায় গিয়ে সোনা লুট, গ্রেপ্তার ২ - Chief TV

ফেসবুকে কবিরাজি চিকিৎসার বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে সোনা-গয়না আত্মসাৎকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা সোনার একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকার মোছাম্মৎ জিয়াসমিন আক্তার (২১) ও মো. আব্দুল্লাহ মিয়া (৬৬)। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এ তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, চক্রটি বিভিন্ন রোগ সারানোর আশ্বাস দিয়ে প্রথমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করত। পরে ঝাড়-ফুঁক, মন্ত্রপাঠ ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের নামে কথিত চিকিৎসা চালানো হতো। একপর্যায়ে ভুক্তভোগীকে ঘরে থাকা সোনার গয়না একসঙ্গে করতে বলা হতো।

চক্রের সদস্যরা গয়না রুমালে মুড়িয়ে পানিতে ডুবিয়ে রাখত। এরপর কথিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে ওই পানি পুরো ফ্ল্যাটে ছিটানোর অভিনয় করা হতো। ভুক্তভোগীর মনোযোগ যখন সেই কর্মকাণ্ডের দিকে থাকত, তখন কৌশলে রুমাল বদলে গয়না নিয়ে পালিয়ে যেত চক্রের সদস্যরা।

এভাবে প্রতারণার শিকার হন রাজধানীর শাহজাহানপুরের এক ব্যক্তি। পরে তিনি শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন। গত ২ জুলাই দায়ের করা মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটির তদন্তভার সিআইডি নেওয়ার পর চক্রটির সদস্যদের শনাক্তে কাজ শুরু হয়। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতারণায় ব্যবহৃত ফেসবুক পেজ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য পেজ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে অভিযান চালায় সিআইডি ঢাকা মেট্রো-পূর্ব ইউনিটের একটি দল। রাত আনুমানিক ২টার দিকে সুনামগঞ্জের ছাতক থানার ফকিরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি জিয়াসমিন আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন আসামি আব্দুল্লাহ মিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের সময় জিয়াসমিনের হেফাজত থেকে একটি সোনার আংটি এবং লকেটসহ একটি সোনার চেইন উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা সোনার মোট ওজন ২১ দশমিক ৮৩ গ্রাম। সিআইডির হিসাবে এর আনুমানিক বর্তমান বাজারমূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুজন প্রতারণার ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা বাকি সোনার গয়না উদ্ধারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত এবং ফেসবুকের মাধ্যমে তারা কতজনকে টার্গেট করেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share: