বাংলাদেশি ধারাবাহিক নাটক ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পাকিস্তানের জনপ্রিয় নাটক ‘শইদাই’-এর গল্প, চরিত্রের পোশাক ও বিভিন্ন দৃশ্যের সঙ্গে নাটকটির মিল খুঁজে পেয়েছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, শুধু অনুপ্রেরণা নয়, পাকিস্তানি নাটকটির একাধিক বিষয় অনুসরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশীয় নাটকের মৌলিকত্ব ও চিত্রনাট্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তানভীর তন্ময় পরিচালিত ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়েছে। নাটকটির দুটি পর্ব প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনা চলছে। প্রথম পর্বটি ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত হয়। ১৫ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত পর্বটি ৬৯ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। পরদিন প্রকাশিত দ্বিতীয় পর্বের দর্শকসংখ্যাও ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে।
নাটকটির প্রধান দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিলয় আলমগীর ও জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এ ছাড়া অভিনয় করেছেন ফারিন খানসহ আরও অনেকে। দর্শকদের একটি বড় অংশ অভিনয়শিল্পীদের কাজ ও নাটকের নির্মাণের প্রশংসা করেছেন। তবে প্রশংসার পাশাপাশি গল্পের মৌলিকত্ব নিয়েও চলছে আলোচনা।
বিতর্কের আরেকটি বিষয় হলো, নাটকটির পোস্টার ও ইউটিউবে প্রকাশিত শিল্পী-কুশলীদের তালিকায় কোনো চিত্রনাট্যকার বা লেখকের নাম দেখা যায়নি। ফলে নাটকটির গল্প কে লিখেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দর্শক মন্তব্য করেছেন, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন দর্শকেরা দেশি-বিদেশি নাটক সহজেই দেখতে পারেন। ফলে কোনো নাটকের গল্প, চরিত্রের পোশাক কিংবা দৃশ্য অন্য কোনো কাজের সঙ্গে মিলে গেলে সেই সাদৃশ্য শনাক্ত করাও আগের তুলনায় সহজ হয়েছে।
ওই দর্শকের মতে, প্রতিষ্ঠিত অভিনয়শিল্পীদের কাছ থেকে দর্শকেরা আরও মৌলিক ও মানসম্মত কাজ প্রত্যাশা করেন। বিদেশি নাটকের গল্প হুবহু অনুসরণের প্রবণতা বাড়লে বাংলা নাটকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
তবে ‘প্রথম প্রেমের গল্প’ পাকিস্তানি নাটক ‘শইদাই’ থেকে নকল করা হয়েছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নাটকটির নির্মাতা বা প্রযোজনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাখ্যার অপেক্ষা রয়েছে।