সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার অধিকাংশ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ৩২২ টাকা এবং বিলম্বিত রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, ইব্রাহীম গার্লস স্কুল, পুকুরপাড় মুক্তিযোদ্ধা হাইস্কুলসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন বাবদ ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, বোর্ড নির্ধারিত ফির তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি ৩২২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকেরা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মূল্যস্ফীতির সময়ে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের পড়ানোর খরচের সঙ্গে অতিরিক্ত ফি যুক্ত হওয়ায় পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সভা করা হয়েছে এবং উপজেলা সুপারভাইজারকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শাহজাদপুর উপজেলা সুপারভাইজার মো. মিলন হোসেন বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। আরও প্রমাণ সংগ্রহের পর আগামী বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিয়ে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ‘রূপান্তর’-এর আহ্বায়ক মো. রাতুল বিন হোসেন বলেন, তিনি নিজেও ওই বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাই নিজ বিদ্যালয়ের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠায় তিনি অত্যন্ত লজ্জিত।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, জাতি শিক্ষকদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে। তাই এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যা তাঁদের সম্মানহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শাহজাদপুরে শিক্ষার পরিবেশ ও মান উন্নয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত মনিটরিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।