হবিগঞ্জের দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় প্রথমবারের মতো ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুকনা খাবার ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিয়েছে ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ, ত্রাণ ও রান্না করা খাবার সরবরাহ করেছে বাহিনীটি।
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতিতে দুর্গত এলাকায় বেড়েছে সাপের উপদ্রব। এ পর্যন্ত সাপের কামড়ে ৭৫ জন আহত হলেও এ ঘটনায় কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি অভিযোগ করেছেন, বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগের সময় প্রধানমন্ত্রীকে জনগণের পাশে না দেখে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে।
টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় পানছড়ি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বন্যার পানির মধ্যে কলাগাছের তৈরি ভেলায় মরদেহ বহনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালেও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনাটি সত্য হলেও এর সঙ্গে প্রচারিত অনেক তথ্যই ভুল ও বিকৃত।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে নাছির উদ্দীনের ঘরে হাঁটুপানি এবং উঠানে কোমরসমান পানি জমে ছিল। এ সময় শিশুটিকে ঘরে রেখে বাইরে কাজ করছিলেন তার মা। একপর্যায়ে মায়ের অগোচরে শিশুটি ঘর থেকে বের হয়ে বন্যার পানিতে পড়ে যায় এবং স্রোতের সঙ্গে ভেসে যায়।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুলাই রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টিপাত ১০ জুলাই দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এ সময়ে জেলায় রেকর্ড পরিমাণ ২৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ।
পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন দুই যুবক। বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত ও বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) পৃথক দুটি ঘটনায় এই নিখোঁজের ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পরপরই তিনি সরাসরি বন্যাকবলিত বাঁশখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। পানিবন্দি ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্দশা সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
টানা ভারি বর্ষণ এবং ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট একসাথে খুলে দেওয়ায় উজান থেকে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।