Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / ধর্ম / যে উপায়ে পর্নো-আসক্তি থেকে মুক্তির পাবেন - Chief TV

যে উপায়ে পর্নো-আসক্তি থেকে মুক্তির পাবেন - Chief TV

2026-10-16  ডেস্ক রিপোর্ট  47 views
যে উপায়ে পর্নো-আসক্তি থেকে মুক্তির পাবেন - Chief TV

মানুষ যখন শয়তানের প্ররোচনায় গুনাহের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তখন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার পাশাপাশি নিজের অভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা জরুরি। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, আত্মসংযম, ক্ষতিকর পরিবেশ থেকে দূরে থাকা এবং নেককার মানুষের সাহচর্য গুনাহ থেকে বাঁচতে সহায়তা করতে পারে।

শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাইতে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত একটি দোয়া পাঠ করা যায়। দোয়াটি হলো, ‘রাব্বি আউযু বিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতিন। ওয়া আউযু বিকা রাব্বি আই ইয়াহদুরুন।’ অর্থাৎ, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমি শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর হে আমার প্রতিপালক! তারা যেন আমার কাছে উপস্থিত না হয়, সে জন্যও তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৯৭-৯৮)

এ ছাড়া ‘আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ পাঠ করেও আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া যায়। এর অর্থ, ‘বিতাড়িত শয়তান থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’

তবে শুধু দোয়া করাই নয়, গুনাহের দিকে নিয়ে যায় এমন অভ্যাস ও পরিস্থিতি চিহ্নিত করে সেগুলো এড়িয়ে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। কেউ যদি স্মার্টফোনের মাধ্যমে অনৈতিক বা নিষিদ্ধ বিষয়বস্তু দেখার অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েন, তাহলে ফোন ব্যবহারে সীমা নির্ধারণ, ক্ষতিকর ওয়েবসাইট বন্ধ করা কিংবা প্রয়োজনে সাধারণ ফোন ব্যবহার করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারেন। একইভাবে, যে সঙ্গ বা পরিবেশ তাঁকে বারবার অন্যায়ের দিকে উৎসাহিত করে, সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রাখাও সহায়ক হতে পারে।

কোনো ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করতে সমস্যায় পড়লে নিজের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা, বিশ্বস্ত মানুষের সহায়তা নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পেশাদার সহায়তা গ্রহণ করা যেতে পারে। অভ্যাস পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ।

গুনাহ থেকে বাঁচার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নেককার ও আল্লাহভীরু মানুষের সাহচর্য গ্রহণ করা। যারা ভালো কাজের প্রতি উৎসাহিত করেন, সত্য কথা বলেন এবং অন্যায় থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করেন, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটালে নিজের চিন্তাভাবনা ও আচরণ সংশোধনের অনুপ্রেরণা পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ (সুরা আত-তাওবা, আয়াত ১১৯)

ভুল পথে থাকা কাউকে সংশোধন করার ক্ষেত্রেও সহানুভূতি ও প্রজ্ঞার গুরুত্ব রয়েছে। হাদিসে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জিনা করার অনুমতি চাইলে তিনি তাকে রূঢ় আচরণ না করে প্রশ্নের মাধ্যমে বিষয়টির অন্যায় দিক বুঝিয়ে দেন। তিনি ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করেন, অন্য কেউ তাঁর মা, মেয়ে, বোন বা ফুফুর সঙ্গে এমন আচরণ করুক, তা তিনি পছন্দ করবেন কি না। 

প্রতিবারই লোকটি অসম্মতি জানালে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বোঝান, অন্য মানুষের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। এরপর তিনি ওই ব্যক্তির জন্য দোয়া করেন। ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়, কাউকে ভুল থেকে ফেরাতে সুন্দরভাবে বোঝানো ও সহমর্মিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইসলামে জিনার মতো গুরুতর গুনাহ থেকে দূরে থাকার বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা জিনার কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত ৩২)

এই নির্দেশনায় শুধু গুনাহটি থেকে বিরত থাকার কথাই নয়, বরং এর দিকে নিয়ে যেতে পারে এমন পথ ও পরিস্থিতি এড়িয়ে চলার শিক্ষাও রয়েছে। তাই দৃষ্টির হেফাজত, আত্মসংযম, ক্ষতিকর অভ্যাস পরিহার এবং সুস্থ পরিবেশে চলাফেরা করা গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, গুনাহ থেকে বাঁচতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা, নিজের ভুল উপলব্ধি, অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা এবং নেককার মানুষের সাহচর্য—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ ভুল করে ফেললে হতাশ না হয়ে অনুতপ্ত হওয়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং সংশোধনের পথে ফিরে আসাই ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


Share: