নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়ায় বাস-ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। দুর্ঘটনার সময় যাত্রীবাহী বাসটির চালকের আসনে মূল চালক নয়, সুপারভাইজার সোহেল রানা ছিলেন বলে দাবি করেছেন আহত একাধিক যাত্রী। তাঁদের অভিযোগ, ওই সময় বাসের মূল চালক ও তাঁর সহকারী পেছনের আসনে ঘুমিয়ে ছিলেন। তবে এ দাবির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোরে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া এলাকায় আরপি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বালুবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
আহত যাত্রীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় বরগুনা থেকে যাত্রা শুরু করে বাসটি মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে বিরতি নেয়। বিরতি শেষে আবার যাত্রা শুরু হলে চালকের আসনে বসেন সুপারভাইজার সোহেল রানা। এ সময় মূল চালক ও তাঁর সহকারী বাসের পেছনের আসনে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে দাবি তাঁদের।
যাত্রীদের এই অভিযোগ সত্য হলে বাস পরিচালনার নিয়ম ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠবে। দুর্ঘটনার সময় বাসটি কে চালাচ্ছিলেন এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সুপারভাইজার বাস চালাচ্ছিলেন—এমন কোনো তথ্য পুলিশের কাছে নেই। তবে এমনটি ঘটে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
দুর্ঘটনায় নিহত সুপারভাইজার সোহেল রানা রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ফরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।
১২ জনের প্রাণহানির এ ঘটনায় আহত যাত্রীদের অভিযোগ যাচাই, চালক ও সহকারীর ভূমিকা নির্ধারণ এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।