সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ফুটপাতের খাবারের দোকানের মালিক ‘ভাইরাল মিজান’ ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড শেষে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরের আগে কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান মিজানুর রহমান মিজান। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের (কেরানীগঞ্জ) এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কারামুক্তির পর মিজান বলেন, ঢাকা শহরের ফুটপাতে একটি দোকান থাকলে তার দোকানটিও থাকতে হবে। এটাই তার চাওয়া। তিনি আরও বলেন, তার হোটেল যেভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেটি যেন আবার গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হয়।
কারাগার সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের সাজা শেষ হওয়ায় রোববার সকালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এ সময় জেলগেটে তার স্বজন ও কয়েকজন শুভাকাঙ্ক্ষী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ৯ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই এলাকায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযান চালান। মিজানের দোকানের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে ঘটনাস্থলে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আগারগাঁওয়ের ফুটপাতে ছোট একটি ভাতের দোকান চালিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পান মিজানুর রহমান। মাত্র ১০০ টাকায় এক পিস গরুর মাংসের সঙ্গে ভাত, আলু ও ডাল পরিবেশনের কারণে তার দোকানটি দ্রুত আলোচনায় আসে। দোকানটির নাম ছিল ‘নিজের হাতে লইয়া খাবেন, ১৪ বার নিয়ে খাবেন’। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি ‘গরিবের বুফে’ নামে পরিচিতি পায়।
দোকানে খাবার পরিবেশন ও খাওয়ার ধরন নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মিজানুর রহমান ‘ভাইরাল মিজান’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন।