Chief TV - Leading online news portal of Bangladesh.

collapse
Home / চট্টগ্রাম বিভাগ / সারাদেশ / কুমিল্লা / ‘ছেলেটাকে ছাড়া পৃথিবীটা বড্ড শূন্য, কীভাবে বাকিটা জীবন কাটাব’ - Chief TV

‘ছেলেটাকে ছাড়া পৃথিবীটা বড্ড শূন্য, কীভাবে বাকিটা জীবন কাটাব’ - Chief TV

2026-10-19  ডেস্ক রিপোর্ট  35 views
‘ছেলেটাকে ছাড়া পৃথিবীটা বড্ড শূন্য, কীভাবে বাকিটা জীবন কাটাব’ - Chief TV

কুমিল্লার কোটবাড়ীর গন্ধমতী এলাকায় নুরজাহান ভিলার তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের দরজার পাশে লেখা—‘অপ্রতিমদের বাসা, প্রযত্নে নাহিদ ও শাহরিয়ার’। একসময় যে বাসা মুখর থাকত ১৩ বছরের ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিমের হাসি, কথা আর ছোটাছুটিতে, সেখানে এখন শুধুই স্মৃতি আর শূন্যতা। একমাত্র সন্তানকে হারানোর এক মাস পেরিয়ে গেলেও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি তার বাবা-মা। এখন তাঁদের অপেক্ষা সন্তানের হত্যার বিচার পাওয়ার।

অপ্রতিমকে ঘিরেই ছিল বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার ও মা নাহিদা বেগমের সব স্বপ্ন। সন্তানকে হারানোর পর তাঁদের জীবন যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে—অপ্রতিমকে নিয়ে কাটানো দিনগুলো আর তাকে ছাড়া বেঁচে থাকার কঠিন বাস্তবতা।

সোমবার দুপুরে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, তাঁদের পুরো অস্তিত্বজুড়েই ছিল ছেলে। অপ্রতিমকে নিয়েই তাঁর ও স্ত্রী নাহিদার সব স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সন্তানকে হারানোর এক মাস পরও পৃথিবীটা তাঁর কাছে ভীষণ শূন্য মনে হচ্ছে। কীভাবে বাকি জীবন কাটাবেন, তা নিজেও বুঝতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর পর থেকেই ভেঙে পড়েছেন মা নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। অপ্রতিমের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার এতটাই অবনতি হয়েছিল যে স্বজনদের তাঁকে ঠিকমতো খাওয়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটনার চার-পাঁচ দিন পর তিনি কুমিল্লা ছেড়ে ঢাকায় বোনের বাসায় চলে যান। বর্তমানে সেখানেই রয়েছেন।

স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে তাঁদের পুরো পৃথিবীটাই যেন হারিয়ে গেছে। ছেলে হত্যার পর স্ত্রীকে নিয়েও শঙ্কায় ছিলেন তিনি। নাহিদা কিছু খেতে চাইতেন না, এমনকি কথা বলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন।

সন্তান হারানোর শোকের সঙ্গে স্ত্রীর অসহায় পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে নিজের কষ্টের কথাও তুলে ধরেন ফিরোজ শাহরিয়ার। তাঁর ভাষায়, তিনিও সন্তানহারা; এমন অবস্থায় স্ত্রীকে কীভাবে সান্ত্বনা দেবেন, কিংবা তাঁরা একে অপরকে কীভাবেই বা সান্ত্বনা দেবেন—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পান না তিনি।

অপ্রতিমকে ঘিরে সাজানো স্বপ্নগুলো আজ স্মৃতিতে বন্দী। সন্তানকে হারানোর অপূরণীয় শোক বুকে নিয়ে দিন কাটছে বাবা-মায়ের। তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—প্রিয় সন্তানের হত্যার বিচার যেন তাঁরা পান।


Share: